পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌসসহ তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়াসহ গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদান না করায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে একাধিক গণমাধ্যমে।
এদিকে গত বুধবার (১৯ মার্চ) দুপুরে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার আর অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তার অফিসে কয়েককজন গণমাধ্যমকর্মীকে তার অফিসে ডাকেন পরামর্শ করার জন্য। আর সেখানেই তার অফিসে করেন গোপন বৈঠক। সেই গোপন বৈঠকে গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদান না করতে পরামর্শ প্রদান করতে শোনা যায় দৈনিক যায়যায় দিন ও দৈনিক ইত্তেফাকের তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামকে৷ সেখানে আশরাফুল ইসলাম ও কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌসকে গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদান না করতে কুপরামর্শ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়ে সমালোচনা করেন।
এদিকে সেদিন রাতেই আশরাফুল ইসলাম ও তামান্না ফেরদৌসের পরামর্শ করার গোপন অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়৷ বিষয়টি নিয়ে বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলা ও সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়।।
অডিও রেকর্ডে তামান্না ফেরদৌস সাংবাদিকদের কাছে পরামর্শ চাইলে, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম তামান্না ফেরদৌসকে তথ্য না দিতে পরামর্শ দিতে শোনা যায়, সেখান আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার একটি ছোট পরামর্শ, আপনি একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, এই যে প্রতিনিয়ত আপনি সরকারি কার্যক্রম আপনি কখন পালন করবেন৷ সাংবাদিকদের যে তথ্যের চাওয়াটা সেটা শুনতেই আমার সময় চলে যায়, আমি সরকারি কাজ করবো কখন। আমি কি কাজ করবো সরকারের, না সাংবাদিকদের এ তথ্য প্রদান করবো। এসব কুপরামর্শসহ তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেও শোনা যায়৷
এদিকে একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কৃষি কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য প্রদান না করতে কর্মকর্তাকে পরামর্শ ও সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত গন্যমাধ্যমকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে৷
জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম বিগত সরকারের আমলে তার পরিবারের লোকজন আ'লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ায় সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এছাড়া তিনি সাংবাদিকতার আড়ালে বিগত সরকারের সময়ে গোয়েন্দা ও পুলিশকে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের নামের তালিকা দিয়ে গ্রেফতার করাতেন বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
এদিকে সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে সরকারের জমি বন্দোবস্তের নামে এক ব্যবসায়ীর চা বাগান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি সেই ব্যবসায়ীর চা বাগানের জমি নিজের দাবি করে স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিসে মাঠ পর্চা করেছেন। এছাড়াও তিনি নিজেকে শিল্পী দাবি করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ না থাকলেও অসুস্থতার বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিগত সরকারের আমলে ভাই-বোনদের ক্ষমতা দেখিয়ে বিভিন্ন অনুদান নেন এই আশরাফুল। তার পুরো পরিবার ফ্যাসিট সরকারের দল আওয়ামীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও বিভিন্ন পদ পদবীতে রয়েছেন৷ এছাড়া তার বাবাকে বিগত সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল জেগেছে।
এবিষয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বলেন, আশরাফুল ইসলাম তিনি আমার চা বাগান নিজের দাবি করে মাঠপর্চা করে নিয়েছে, এই বিষয়ে আমি সেটেলমেন্ট অফিসে অভিযোগ দিয়েছি৷ তার দখলে কোন জমি না থাকলেও তিনি কেমনে সরকারের কাছে জমি নিতে পারেন৷ তার জমি দখলে না থাকলেও কয়েক বছর পর আমার বাড়ির পিছনে চা বাগান এখন নিজের দাবি করতেছেন।
একই অভিযোগ করেন খাদেমুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় শিল্পী বলেন, বিগত বছরে আমরা তেঁতুলিয়ার শিল্পীরা সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাইনি৷ আমরা দূর্বল হওয়ায় আশরাফুল তার কয়েক জন লোক দিয়ে অনুষ্ঠান করতো৷ সেই সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে৷ তিনি আমাদের সব জায়গা থেকে বাদ দিয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে একাধিবার প্রশাসনকে অভিযোগ করলেও কোন আমলে নেননি৷
একদিকে আশরাফুল ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷
এদিকে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস বলেন, আমাদের কথাপকথন রেকর্ড করে পরে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সাথে যোগাযোগ না করে একতরফা নিউজ করা হয়েছে। আমাদের তারা কোন আত্মসমর্পণের সুযোগ দিলো না৷
কেকে/এআর