ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বাংলা বর্ষবরণের আয়োজনে মুসলিম বিশ্বাসের বিপরীত সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলা বর্ষবরণ বাঙালির নিজস্ব সাল গণনার উৎসব। গ্রামবাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যে এই উৎসব প্রাণ ও প্রকৃতির ছোঁয়া বহন করত। কিন্তু এখন তা মুসলিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অপচেষ্টা চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারের আমলে পয়লা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নামে কলকাতার উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সংস্কৃতি আমাদের দেশে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টার কথাবার্তায় মনে হয়েছিল, তারা স্বৈরাচারের চর্চিত রীতি থেকে সরে আসবে। কিন্তু আমরা হতাশার সঙ্গে দেখছি, সেই একই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রাখা হয়েছে, যা মুসলমানদের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন মনে করে, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসে আঘাত করে কোনো উৎসবকে সার্বজনীন করা যায় না। যদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারও এই সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখে, তাহলে জনগণ হতাশ হবে এবং এর পরিণতি ভালো হবে না।
তিনি পয়লা বৈশাখের আয়োজনে ইসলামের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিপন্থী বিষয় বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ঈদ অত্যাসন্ন, কিন্তু এখনো অনেক শ্রমিক তাদের মজুরি বুঝে পাননি। সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে এটি সমাধান করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদের সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
কেকে/এএম