‘বাহে, এবার আলুর দাম নাই। বেচাইলে অর্ধেক লস। হাতোতও টাকা নাই, সামন তো ঈদ। ছাওয়ার ঘরে নয়া জামার জন্য বায়না ধরছে। কেমন করি ঈদখান পার করিম, খুব টেনশন হয়ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট হাটে কথাগুলো বলছিলেন এ উপজেলার হাতিয়র গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন। প্রতিবছর উৎপাদিত ফসল বিক্রির লাভের টাকায় পরিবারে জন্য ঈদের কেনাকাটা, সংসার খরচ করেন। কিন্তু এবার লাভ তো দূরের কথা, ফসল বিক্রি করতে গেলেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ইসমাইল হোসেন বলেন, আমন ধান বিক্রি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবার ৫০ শতকে আলু চাষ করেছেন। আলু উৎপাদনে তার ২২ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে ১২ টাকা কেজি দরে সেই আলু কেনাবেচা হচ্ছে।
হিমাগারে জায়গাসংকট থাকায় আলু ও বাজারে ধস নেমেছে। এ অবস্থায় আলু বিক্রি করলে অর্ধেক লোকসান গুনতে হবে। শুধু তাই নয় কালাই উপজেলার অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকের এবার একই অবস্থা। আলুর দাম না থাকায় ঈদের আমেজ নেই তাদের মধ্যে।
এ উপজেলার আরেক কৃষক মতিয়ার রহমান এবার ১৫ বিঘা আলু চাষ করেছেন। আলু উত্তোলনের পর এখনো দাম না থাকায় বিক্রি ও রাখার জায়গা সংকটে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারেননি। এরই মধ্যে ঈদের চিন্তা পেয়ে বসেছে তাকে। বাজারে আলুর দাম নাই, হিমাগারোত জায়গা নাই। তা হইলে তোমরায় কন এবার ঈদ করমো কী দিয়া?
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আলু বেচাকেনার জেলার বৃহৎ পুনট হাটের দিন। এই দুদিনে পুরো উপজেলা ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ কেনাকাটা করতে এ হাটে আসেন।
সরেজমিনে ঘুরে কাপড়ের হাটে দেখা যায়, তেমন কর্মব্যস্ততা নেই। দু-একটি দোকানে কয়েকজন ক্রেতার দেখা মিললেও, প্রায় দোকানে অলস সময় পার করছেন অধিকাংশ কর্মচারী।
কেকে/এএম