মিয়ানমারে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭১৯-এ পৌঁছেছে, জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন জান্তা প্রধান মিন অঙ হ্লাইং। এ পর্যন্ত ৪৫২১ জন আহত এবং ৪৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াতে পারে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুরে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে এই ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) একে গত শতাব্দীর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির অনুমান, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পে নেপিদো ও মান্দালয়ের বহু আধুনিক ভবন ধসে পড়েছে। ঐতিহাসিক বৌদ্ধ মন্দিরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মান্দালয়ে উদ্ধার কাজ চলছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধসে ২ শিক্ষক ও ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ভূমিকম্পে সেতু, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, পরিষ্কার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের অভাব সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, আশ্রয়, খাবার, পানি ও চিকিৎসার তীব্র সংকট চলছে।
ভূমিকম্পের পর নতুন কম্পনের আতঙ্কে মান্দালয়ের বাসিন্দারা খোলা জায়গায় তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ৩৩ তলা ভবন ধসে পড়ে। এতে ২০ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন, যাদের মধ্যে মিয়ানমারের নির্মাণ শ্রমিকরাও রয়েছেন।
মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আগে থেকেই বিপর্যস্ত ছিল। এই ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো দ্রুত সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করছে।
কেকে/এএম