ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে পৃথক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল এবং সন্ধ্যায় চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে ৬টি বাড়ি ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনা দুটি ঘটে উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের শরইবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামে এবং হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের শরইবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের কবির খাঁ ও একই গ্রামের বাবু তালুকদার পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দ্বন্দ্ব- সংঘাত চলে আসছিল। গ্রামবাসী এ দু'দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঈদের দিন রাতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে এবং বিকেলে দু'পক্ষের মধ্যে দফায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ১০ জন আহত হয় এবং দুই পক্ষের ৬ টি বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে শওকত খান (৩২) আমির হামজা তালুকদার (৪৮)মজিবর তালুকদার(৬০) মফিজ তালুকদার (৩০)কে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে তাদের কে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় অন্তত ২০ জন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে আলম মেম্বার গ্রুপের মাহবুর মোল্লার সঙ্গে বাবর আলী গ্রুপের ছরোয়ার শিকদারের মধ্যে মুনসুরাবাদ বাজারে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে এলাকায় রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
গুরুতর আহত হল শিমুল(২২) ও মাহবুব মোল্লা(৩৮) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্য আহতদের মধ্যে টুটুল মিয়া(৩০), মিরাজ ফকির(৩০), রবিউল মাতুব্বর(২৬), রবিউল(৪৫), কালা মাতুব্বর(২৬), জুয়েল ফকির(৩৮), সামাদ মাতুব্বর(২০), শফিকুল ইসলাম(২৪), বেলায়েত মাতুব্বর(১৮), সোহাগ মিয়া(১৮), আব্দুল্লাহ(২৪), মিরান(৩৫), কামাল মাতুব্বর(৪৭), জুয়েল মাতুব্বর(৩০), মিজানুর(৪৬)। এদের মধ্যে শিমুল ও মাহবুব মোল্লাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকীদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এআর