ভোলার চরফ্যাসনে মো. আব্বাস পাটোয়ারী (৪৫) নামের এক সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে রাতের আধাঁরে আটক করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক মো. জামাল উদ্দিনসহ তার দলবলের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাতে দক্ষিণ আইচা থানার সৌদি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় মুজাহার তালুকদার বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ওই সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বাগানে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বজনদের খবর দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাতেই চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বুধবার বিকালে আহত আব্বাস পাটোয়ারীর স্ত্রী বিবি কুলসুম বেগম বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৪ জনসহ আজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামী করে দক্ষিণ আইচা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্বাস পাটোয়ারী দক্ষিণ আইচা থানা সেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ও ওই গ্রামের মাহামুদউল্লাহ পটোয়ারীর ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্বাস পাটোয়ারী জানান, দুইদিন আগে ট্রাক ও বোরাকের সাইড দেওয়া নিয়ে স্থানীয় বখাটে যুবক বেটারী চালিত অটোবোরাক চালক জামাল উদ্দিনের সাথে তর্ক-বিতর্ক হয়। ওই তর্কের জের ধরে বখাটে যুবক জামালসহ তার দলবলরা প্রায় সময় তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে তিনি দক্ষিণ আইচা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বে থেকেই ওত পেতে থাকা অটোচালক জামাল ও মমিনসহ কয়েকজনের একটি সংঘব্ধ দল তার গতিরোধ করে তার ওপর অর্তকিত হমালা চালিয়ে গালায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার চালান। এ সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তারপর মরে গেছেন ভেবে হামলাকারীরা তাকে একটি বাগানে ফেলে চলে যান।
পথচারী আনোয়ার হোসেন জানান, দক্ষিন আইচা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সৌদি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় মুজাহার তালুদার বাড়ির দরজায় এলে হট্টগোল দেখতে পেয়ে তিনি দৌঁড়ে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
এ সময় অজ্ঞান অবস্থায় সেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্বাস পটোয়ারীকে বাগানে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেন। পরে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন ও মমিন পালিয়ে থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভুইয়া জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এএম