একদিকে সাদা চুলের প্রবীণরা স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত, অন্যদিকে মাঝবয়সীরা নিজেদের সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প ভাগ করছেন, আর তরুণেরা স্বপ্নের বুননে খোশগল্পে মশগুল—এমনই এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা গ্রামের দরবেশগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব। ‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’—এই স্লোগানে একত্রিত হয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী আয়োজিত এই মহামিলন উৎসবে অংশ নেন দুই সহস্রাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের মাঠ, লাগোয়া সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ সেজে উঠেছিল এক উৎসবমুখর আবহে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিক উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয় আমাদের গর্ব, আমাদের শেকড়। ৭৫ বছর পেরিয়ে এটি যে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে, তা আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সূফী আবদুল করিম দরবেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাঞ্জুমা শারমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কচুয়ার বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রফেসর আব্দুল ওয়াদুদ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব, যারা একসময় এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
প্রাক্তন ছাত্র অ্যাডভোকেট হালিম পাটওয়ারী আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ২৩ বছর পর স্কুলে এলেও মনে হচ্ছে সেই দূরন্ত শৈশবে ফিরে গেছি। মাঠের প্রতিটি কোনায় আমাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, স্কুলজীবনের স্মৃতিগুলো নতুন করে জাগিয়ে তুলতে এই আয়োজন। যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শেষে সন্ধ্যার পর শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, নাটিকা ও নাচ পরিবেশিত হয়।
কেকে/এএম