জয়পুরহাটের কালাইয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর হাইকোর্টের রায়ে ১২ একর ৬৫ শতক পুকুর ও পুকুর পাড় ব্যবহারের রায় পেলো স্থানীয় জনগণ।
বুধবার (২ এপ্রিল) জয়পুরহাট জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান ১৬ পাতার রায়ের কপিটি স্থানীয় জনগণের সামনে পেশ করেন। পুকুড়গুলি কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পূর্বকৃষ্টপুর মৌজায় অবস্থিত।
রায়ের আলোকে জয়পুরহাট জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, পূর্বকৃষ্টপুর মৌজার ১২ একর ৬৫ শতক পুকুর তৎকালীন জমিদার কালীকেশ চট্টোপাধ্যায় স্থানীয় জনগণের ব্যবহারের জন্য লিখে দেয়। এরপর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যবহার করে আসছিলো। মাঝখানে আব্দুল মজিদ ও মারফত জামান ফকির তাদের নামে ভিত্তিহীন কাগজ তৈরি করে ওই সম্পত্তি দাবি করে। এর প্রেক্ষিতে মামলা হলে হাইকোর্ট অত্র সম্পত্তি জনগণ ব্যবহার করবে মূলে রায় ঘোষণা করেন। জনগণের নামের সম্পত্তি বিবাদীপক্ষ ভুয়া কাগজ তৈরি করে দখলের চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়রা হাইকোর্টের দারস্থ হলে বিবাদীপক্ষ ওই সম্পতি তাদের নামে প্রমাণ করতে না পারায় মহামান্য হাইকোর্ট এলাকার জনগণের পক্ষে এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার পরিচালনাকারী পূর্বকৃষ্টপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে বলেন, জনগণের দখলে থাকা সম্পত্তি পূর্ব কৃষ্টপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ ও মারফত জামান ফকির ভুয়াভাবে তাদের নামে কাগজ তৈরি করে ওই সম্পত্তি দাবি করলে আমরা প্রথমে আদালত এবং পরে হাইকোর্টের দারস্থ হই। মহামান্য হাইকোর্টে বি-বাদী পক্ষ কোনো প্রমানাদি দেখাতে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট এলাকার জনগণের পক্ষে রায় দেন।
এ রায়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে মেতে উঠেছে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, হাইকোর্টের যুগান্তকারী এ রায় এলাকাবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কেকে/এএম