কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খালাতো ভাইয়ের মুসলমানির অনু্ষ্ঠানে যাওয়ার পথে অবৈধ যান করিমন গাড়ির চাপায় নাঈম নামের চারমাসের এক শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নগর সাঁওতা গ্রামের রিকশাচালক নাজমুল হোসেনের ছেলে।
এদিকে গাড়ি চালক আমিনুল ইসলামকে আটকের পর পুলিশে সোপার্দ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার মহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে শিশু নাঈম তার মা, বাবা, নানা, নানিসহ স্বজনরা কুমারখালীর এলংগী এলাকা থেকে খোকসার কলিমহর মুসলমানির অনু্ষ্ঠানে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুমারখালীর পৌরসভার আমতলা এলাকায় অটোগাড়িটি বাকা মোড় মারলে মায়ের কোল থেকে শিশু নাঈম সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। সে সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি করিমন গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের রাখা রয়েছে রক্ত মাখা শিশু নাঈমের মরদেহ। বারান্দায় তার মাসহ স্বজনরা আহজারি করছেন।
এ সময় বিলাপ করতে করতে নাঈমের মা মালা খাতুন বলেন, আমার সোনা আমার দেখলেই হাসতরে। আমি কী জবাব দিবনে। আমি ক্যাম্বা থাকবনেরে। কী নিয়ে বাড়ি যাব?
নাঈমের নানা ও ভ্যানচালক শহিদুল বলেন, কলিমহর আরেক নাতি ছেলের মুসলমানির অনু্ষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। পথে বাকা মোড়ে আমার মেয়ে মালা ও নাতি নাঈম রাস্তার ওপরে পড়ে যায়। তখন করিমন গাড়ি নাঈমকে চাপা দিয়ে মারে ফেলে।
বাবা নাজমুল বলেন, অবৈধ গাড়ির চাপায় ছেলে মারা গেছে। চালক আটক আছে। বিচারের আশায় থানায় মামলা করব।
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, করিমন গাড়ির চাপায় এক শিশু মারা গেছে। চালককে মারধরের পর জনতা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এএম