‘হে মাহভাগ ব্রক্ষ্মপুত্র। হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো’ এই বিশ্বাসকে ধারণ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন কয়েকলাখ পুণ্যার্থী।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৭ মিনিটে লগ্ন শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী অষ্টমী পুণ্যস্নানের। শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ৫১ মিনিটে বিহীত পূজার মাধ্যমে শেষ হবে এ স্নানের।
যুগ যুগ ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ব্রক্ষ্মপুত্র নদে নিজেদের পাপ-তাপ বিনাশের বিশ্বাস নিয়ে পুণ্যস্নানে অংশ নেন। ব্রক্ষ্মপুত্রে মন্ত্র পড়ে ডুব দিয়ে সকল পাপ থেকে মুক্তির আশায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও নেপাল থেকেও অনেক হিন্দুরা এসে অংশ নেন।
হিন্দু পুরাণমতে, ত্রেতাযুগের পিতার আদেশ পুরণের জন্য মাকে কুঠার দিয়ে হত্যা করেন কঠোর পাপে আড়ষ্ট হন পরশুরাম। পাপের কারণে সেই কুঠার তার হাতেই আঠার মতো লেগে থাকে। তখন ঈশ্বরের আদেশে অশোক বনের জলাধারে ডুব দিলে তার সেই মাতৃহত্যার পাপ মোচন হয়। পরে পরশুরাম সেই জলাধার লাঙ্গল দিয়ে কেটে ব্রক্ষ্মপুত্রে মিলিয়ে দেন। সেই থেকে পাপ মোচনের আশায় এই ব্রক্ষ্মপুত্রে স্নান করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের ২০টি ঘাটে স্মান উৎসবে অংশ নিয়েছেন কয়েক লাখ পুণ্যার্থী। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০টি ঘাটে সুন্দরভাবে স্নানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য সবগুলো ঘাটে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১শ ৬০টি অস্থায়ী টয়লেট ও স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্নান ঘাটে অপ্রীতিরক ঘটনা এড়াতে ৩টি ডুবুরি দল রয়েছে।
অন্যদিকে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য দেড় হাজার পুলিশ সদস্য, ৪ শ ৭১ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। স্থাপন করা হয়েছে সেনাক্যাম্প। তীর্থস্থানের তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কয়েকটি ওয়াচটাওয়ার বানানো হয়েছে। যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও নদীতে ৬৪জন নৌ-পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।
পুজা উদযাপন কমিটির নেতা জয়কে রায় চৌধুরী আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও অন্যরাও পুণ্যলাভের আশায় স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। পুণ্যার্থীদের মধ্যে তারা খাবার ও পানীয় সরবরাহ করছেন। স্বাস্থ্যসেবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টিমও কাজ করছে।
কেকে/এআর