ভূমি সেবা ও পৌর নাগরিক সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।
বুধবার সকালে হঠাৎ এক প্রয়োজনে দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যাই। সেখানে গিয়ে হঠাৎ আমার বসার স্থানের বাঁ দিকে চোখে পড়ল একটি সাইনবোর্ড। লেখাটি পড়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য থমকে যাই। সেখানে লেখা ছিল—‘দালাল হতে সাবধান। সকল সরকারি ভূমি সেবা সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী সরাসরি গ্রহণ করুন। কেউ দালালের খপ্পরে পড়বেন না।’
একটি ছোট্ট বাক্য, অথচ এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বিশাল এক বার্তা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, হয়রানি ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে যেন এটি এক সাহসী ঘোষণা।
কার্যালয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন নামজারি, খারিজ ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
শুধু ভূমি অফিস নয়, পৌর নাগরিক সেবার ক্ষেত্রেও তার কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে সাধারণ মানুষের। সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ, দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কারণে দিন দিন মানুষের আস্থা বাড়ছে প্রশাসনের প্রতি। এছাড়াও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দাউদকান্দি পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি পৌরসভা কার্যালয়ের বাহিরে ও অফিসকক্ষ দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্মার্ট নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন সড়ক সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। গত বছর পৌরসভা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হওয়ার পর তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম ও ওষুধ ছিটানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ নেন।
সাধারণ মানুষ বলছেন, ‘‘সরকারি অফিস মানেই যেখানে হয়রানি— সেই পুরোনো ধারণা বদলে দিতে কাজ করছেন এসিল্যান্ড রেদওয়ান ইসলাম।’’
তার মতো জনবান্ধব কর্মকর্তারা থাকলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
উত্তর ইউনিয়ন থেকে আসা ভূমি সেবাপ্রত্যাশী মো. ফরাজী বলেন, “আমি একটি জমির নামজারি (খারিজ) করতে এসেছিলাম। কোনো ধরনের দালাল বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ জন্য রেদওয়ান ইসলাম স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তার উদ্যোগে ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতারা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।”
রেদওয়ান ইসলাম বলেন, “সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভূমি অফিসে কোনো ধরনের দালালচক্র বা অনিয়মের সুযোগ নেই। আমি সবসময় সেবাপ্রার্থীদের সরাসরি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একই সঙ্গে পৌর নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কেকে/এমএ