নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ ও ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের আগের রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী। তবে প্রশাসনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুব উর রহমান মাহবুব অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাতে তার পক্ষের বিভিন্ন ভোটারের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মাহবুব উর রহমান মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে শুক্রবার দিবাগত রাতে আমার পক্ষের বিভিন্ন ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ হানা দেয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচনে পুলিশের এমন নগ্ন হস্তক্ষেপে ভোটাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তেমন কোনো সুরাহা পাইনি। পুলিশের এমন নগ্নতার আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
একই অভিযোগ করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী আবু সালে সোহেল রানা। তার দাবি, ভোটের আগের রাতে পুলিশ বিভিন্ন ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তাদের ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ট্যাগ’ দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে শুক্রবার রাতে পুলিশ বিভিন্ন ভোটারের বাড়িতে হানা দেয়। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। পুলিশের এমন নগ্নতার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ভয়ে অনেক ভোটার ভোট দিতে আসেননি। এতে করে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়।’
তবে নির্বাচনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আবু মোহাম্মদ সোয়েম। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রভাবমুক্ত থেকে নিঃস্বার্থভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে নীলফামারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান এবং নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমানের বক্তব্য জানতে শনিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তারা ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নানা আলোচনা চলছে।
বিস্তারিত আসছে...
কেকে/এআই