রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। বিদ্যমান শূন্য পদে নিজ বেতন ও বেতন স্কেলে এ সব শিক্ষককে বদলি করা হয়। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ের অন্তঃউপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটির ২৬ সেপ্টেম্বরের সভার সিদ্ধান্তের পর এ সব বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে মো. শামীম হোসেনকে বাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মো. হাবিবুর রহমানকে পূর্ব কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাইকান কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. মেরিনা আক্তারকে মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর পানাপুকুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. পান্না আক্তারকে পূর্ব খলেয়া উপরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মেছনিকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মোছা. সমাপ্তি বেগমকে চারআনি সাতআনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কচুয়া বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোছা. মারুফা আকতারকে পূর্ব খাপরিখাল হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মো. স্বপন মিয়াকে উত্তর খলেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খাপড়িখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. তৌহিদা খাতুনকে চান্দামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঘাঘটটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. মমতাজ আকতারকে উত্তর লালচাঁদপুর পণ্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লালচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পদ্ম চন্দ্র রায়কে চর ইশোরকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলাগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মোছা. রুনা শাহকে কিশমত কুতুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. বায়তুন নেছাকে কচুয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সেলিনা খাতুন মায়ালীকে খাপড়িখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দোন্দড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোছা. নিশাত ইয়াসমিনকে চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বকশীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মো. রবিউল ইসলামকে বড়াইবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পীরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে কয়েকজন শিক্ষকের বদলি ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলির আদেশ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কোনো টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন বলেন, ‘এবারের বদলি প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। শিক্ষকদের যৌক্তিক আবেদন যাচাই-বাছাই করে নিয়ম অনুযায়ী বদলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় থাকা শিক্ষকরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে যে সব বদলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকটও অনেকটা ভারসাম্যের মধ্যে থাকবে।’
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বদলির আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিদ্যমান শূন্য পদ বিবেচনায় নিয়ে ১৫ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ, সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির মাওলানা মো. নায়েবুজ্জামান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এআই