ভার্চুয়াল জগতের তুচ্ছ বিরোধ গড়িয়েছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। অবশেষে সেই চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনার চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হলো। মৌলভীবাজারে কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈমকে নিজ বাড়িতে পরিবারের সামনে কুপিয়ে হত্যার দায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন অপর পাঁচ আসামি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রবিউল আউয়াল জনাকীর্ণ এজলাসে এক জনাকীর্ণ রায়ে এ আদেশ দেন।
মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন বলেন, আজকে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় হয়েছে। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ চারজন আসামির প্রত্যেকের ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। বাকি আসামিদের ওপর আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নুরুল ইসলাম, সায়মন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। তাদের মধ্যে নুরুল ও সায়মনকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলেও রনি ও আনোয়ার এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে পলাতক।
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুচ্ছ এক বিরোধ ঘিরে রক্তক্ষয়ী রূপ নেয় পুরো ঘটনা। সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে নিজ বাড়িতেই ঘাতকদের লক্ষ্যবস্তু হন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈম। স্বজনদের আকুতি ও চোখের সামনেই ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপে রক্তাক্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নাঈম।
এই নরকীয় ঘটনার পর নিহতের বাবা চেরাগ মিয়া বাদি হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের অপরাধ নির্মম ও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত দেন।
আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহতের বাবা চেরাগ মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, যে রায় হয়েছে, এতে আমি আদালতের প্রতি ভীষণ সন্তুষ্ট, ভবিষ্যতেও যাতে কোনো মা-বাবার কোল এভাবে খালি না হয় এবং প্রতিটা বিচারক যেন এমন ন্যায় সন্তোষজনক রায় দিতে পারেন—আমি সেই কামনা করি।
কেকে/ এমএস