গাজীপুরের সড়কে শব্দদূষণ কমাতে গণপরিবহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সাড়ে ৫০০টির বেশি বাসে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইড্রোলিক হর্ন খুলে সহনীয় মাত্রার হর্ন লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও চালকেরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবহন মালিক ও গণপরিবহনের চালকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক বলেন, গাজীপুরে শব্দদূষণের অন্যতম কারণ যানবাহনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজানো। বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের তীব্র শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাই এসব হর্নের ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হচ্ছে।
সভায় পরিবহন মালিক ও চালকদের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সাড়ে ৫০০টির বেশি বাসের হাইড্রোলিক হর্ন পরিবর্তনের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে সহনীয় মাত্রার হর্ন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া হর্ন না বাজানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গত দুই মাস ধরে গাজীপুরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শব্দদূষণ কমানোর উদ্যোগ শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবাই সহযোগিতা করলে গাজীপুরকে একটি শান্ত ও স্বস্তিদায়ক নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই—মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং একটি শান্ত, শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা।’
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজিরসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
কেকে/সাশ