সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন, বাজারের শৃঙ্খলা, যানজট, কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং হাওরাঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ রিপামনি দেবীর সভাপতিত্বে সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, যুগ্ম আহ্বায়ক রাখাব উদ্দিন, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুরাদ, মুক্তিযোদ্ধা হারুন-ওর-রশীদ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মিজ্ রিপামনি দেবী বলেন, ‘তাহিরপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয়। এ এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন বা পুলিশের একার নয়। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথাও অপরাধ বা অনিয়মের তথ্য থাকলে তা প্রশাসনকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সভায় যাদুকাটা নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকা, হাওরের নৌপথ এবং বিভিন্ন বাজারের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহন, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, হাওর ও সীমান্তঘেরা তাহিরপুরের ভৌগোলিক বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কেকে/এআই