শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দলিল টেম্পারিং করে প্রকৃত জমির চেয়ে বেশি জমি নামজারির চেষ্টার অভিযোগে জুলহাস উদ্দিন গাছা নামে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিসকেসের শুনানি চলাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, জুলহাস উদ্দিন ৭০৮/২০০৯ নম্বর একটি দলিল উপস্থাপন করেন। দলিলে জমির পরিমাণ ২০ শতক উল্লেখ থাকলেও দলিলের বিভিন্ন পাতায় জমির পরিমাণের জায়গায় ঘষামাজার চিহ্ন দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে শরীয়তপুর সদর মহাফেজখানায় সংরক্ষিত বালাম বহি যাচাই করে দেখা যায়, ওই দলিলে প্রকৃতপক্ষে ১০ শতক জমি হস্তান্তরের তথ্য রয়েছে।
ভূমি অফিসের তথ্যমতে, টেম্পারিং করা ওই দলিলের ভিত্তিতে জুলহাস উদ্দিন ইতোমধ্যে ১২ শতক জমির নামজারি করিয়েছেন। পরবর্তীতে আরও ৮ শতক জমি নিজের নামে নামজারি করার উদ্দেশ্যে তার ভাই হারুন গাছার নামে থাকা ২৫-১৩২ খতিয়ান বাতিলের আবেদন করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আবেদনে জুলহাস দাবি করেন তার ভাই অফিসকে ভুল বুঝিয়ে বেশি জমি নামজারি করেছেন। তার দলিল আগের এবং ভাইয়ের দলিল পরের—এমন দাবি করে ভাইয়ের নামজারি বাতিল করে নিজের নামে ২০ শতক জমি নামজারির আবেদন করেন। পরে উপস্থাপিত দলিলটি যাচাই করে টেম্পারিংয়ের বিষয়টি ধরা পড়ে।
উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টেম্পারিং করা দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি জমি নিজের নামে নামজারির চেষ্টা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(১)(ক), ৪(১)(চ) ও ৫(১)(গ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস।
গ্রেফতার জুলহাস উদ্দিন গাছা কে ডামুড্যা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে টেম্পারিং করা দলিলটি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডামুড্যা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা ভূমি অফিসের আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কেকে/সাশ