বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● যৌথবাহিনী নয়, সমন্বিত অভিযান জোরদার হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর, রিজার্ভ-রেমিট্যান্সে স্বস্তি       ● প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে       ● বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পাকিস্তান      ● ফেনীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      ● একদিনের সফরে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ক্লিন হার্টের পুনর্মূল্যায়ন
জননিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় কঠোরতা জরুরি
ওয়াসিম ফারুক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। বেগম খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে সরকার গঠনের পরপরই তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলীয় প্রভাবশালী নেতা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের উত্থান নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। জয়নাল হাজারী, হাজী সেলিম ও শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী নেতাদের ঘিরে দলীয় পৃষ্ঠপোষকতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হয়।

তাদের প্রভাববলয়ে গড়ে ওঠা অপরাধী নেটওয়ার্কের কারণে দেশের কিছু অঞ্চল সাধারণ মানুষের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ওইসব নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিলীন হয়নি। পাশাপাশি নতুন ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে কিছু চাঁদাবাজ, দখলদার ও অপরাধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা, সহিংসতা ও জননিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকে। ২০০১ সালের নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে সাধারণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে বিবেচিত হলেও নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদনে নির্বাচনকে মোটামুটি অবাধ ও সুষ্ঠু বলা হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ২০০২ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০০২ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ৩২৩ জন নিহত হন। ২০০১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪১২। একই সময়ে ১৮৭টি বোমা বিস্ফোরণে ৭৬ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হন। 

এই পরিসংখ্যান সে সময়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝায়। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার এবং অপরাধী গোষ্ঠীর দাপট সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে, কার্যত ১৭ অক্টোবরের প্রথম প্রহরে, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে শুরু হয় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’। অভিযানটি ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৫ দিন চলে। এতে ৪০ হাজারের বেশি সামরিক সদস্য অংশ নেন এবং ১০ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন, আসামি ও অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১১ হাজার ২৪৫ জন পর্যন্ত বলা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, সশস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা এবং জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। 

অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত অভিযানের ঘোষিত কাঠামোয় দলীয় পরিচয়ের বাইরে অপরাধে সম্পৃক্ততাকে বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা ছিল। তবে অভিযানটি বাস্তবে কতটা নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছিল, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তোলে। অভিযানের শুরুতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বিগ্ন মানুষের একটি অংশ এতে স্বস্তির আশা দেখেছিল। কারণ তখন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে জনসমর্থন থাকলেও কোনো অভিযান আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না— এটাই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। 

অপারেশন ক্লিন হার্টের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক ছিল অভিযানের সময় হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযানের সময় অন্তত ৫০ জনের হেফাজতে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০০৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৩৮ জন ব্যক্তি সেনা হেফাজতে নির্যাতনের ফলে মারা গেছেন বলে অভিযোগ ছিল। সরকার অবশ্য এসব মৃত্যুর অনেকগুলোকে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

অন্যদিকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়ায় বিতর্ক আরও গভীর হয়। ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি সরকার ‘জয়েন্ট ড্রাইভ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ জারি করে। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে আইনটি অনুমোদিত হয়। ওই আইনের মাধ্যমে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা দায়েরের সুযোগ সীমিত করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানে আনুমানিক ৫০ জন নিহত হন এবং আইনটি নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনি দায় থেকে সুরক্ষা দেয়। এই দায়মুক্তি আইন মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

কারণ অপরাধ দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রয়োজন থাকলেও সেই শক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের বাইরে রাখা হলে আইনের শাসন দুর্বল হয়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনিক আস্থার সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের সামনেও জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। 

বর্তমান সংকটের পেছনে রাজনৈতিক সহিংসতা, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা, অপরাধী নেটওয়ার্কের পুনঃসক্রিয়তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর আস্থার ঘাটতি কাজ করছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ওঠে এসেছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও হত্যা, চাঁদাবাজি, দখল, ছিনতাই, রাজনৈতিক সংঘাত এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অধিকার-এর এপ্রিল-জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে মব হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪১ জন নিহত এবং প্রায় ৯৭০ জন আহত হন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে; আগের ছয় মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৭৫। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে কয়েক শ মুখোশধারী ব্যক্তির হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পরিস্থিতির নতুন মাত্রা সামনে এনেছে। হামলার সময় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ওঠে। পরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এই ধরনের ঘটনা দেখায়, জমি দখল, চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক বিরোধ যখন সংঘবদ্ধ হামলা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা আর ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে না; বরং রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে পরিণত হয়। ২০০২ ও বর্তমান সময়ের মধ্যে একটি মৌলিক সাদৃশ্য রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং অপরাধ দমনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনা। তবে দুই সময়ের সামাজিক ও কৌশলগত বাস্তবতা এক নয়। 

২০০২ সালে প্রধান সমস্যা ছিল সংঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অপরাধী নেটওয়ার্ক। বর্তমান সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গুজব, মব সহিংসতা, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থার সংকট এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের জটিলতা। বর্তমান সংকটে আরও একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ বাধাগ্রস্ত করা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং জনতার হাতে বিচার তুলে দেওয়া। জনগণের ক্ষোভের পেছনে বাস্তব কারণ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের বিচারিক ক্ষমতা কোনোভাবেই জনতার হাতে ন্যস্ত হতে পারে না। অপারেশন ক্লিন হার্টের ইতিহাস থেকে রাষ্ট্রের জন্য দুটি পরস্পর সম্পূরক শিক্ষা পাওয়া যায়। 

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। দ্বিতীয়ত, সেই পদক্ষেপকে সংবিধান, আইন এবং মানবাধিকারের কঠোর কাঠামোর মধ্যে রাখতে হয়। শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে কোনো আইনশৃঙ্খলা অভিযানের সাফল্য বিচার করা যায় না। একটি সফল অভিযানের জন্য প্রয়োজন : সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা; গ্রেপ্তার ব্যক্তির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা; নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করা; হেফাজতে মৃত্যু বা নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত; অভিযানের ওপর বিচারিক ও সংসদীয় নজরদারি; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাগত সংস্কার; এবং মব সহিংসতা ও গুজব মোকাবিলায় দ্রুত তথ্যপ্রকাশ ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা। 

রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগে অতিরিক্ত দুর্বলতা যেমন অপরাধীদের উৎসাহিত করে, তেমনি জবাবদিহিহীন কঠোরতা জনগণের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট করে। তাই রাষ্ট্রকে একই সঙ্গে দৃঢ় ও সংযত হতে হবে। আজকের বাংলাদেশের প্রশ্নটি শুধু ‘ক্লিন হার্টের পুনরাবৃত্তি দরকার কি না’— এই আবেগী কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, ২০০২ সালের মতো বড় আইনশৃঙ্খলা সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্র কীভাবে আরও দ্রুত, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক আইনি কৌশল গ্রহণ করবে। 

অপারেশন ক্লিন হার্ট কেবল অতীতের একটি সামরিক বা প্রশাসনিক অভিযান নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের সম্পর্ক বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। সেই অভিযান দেখিয়েছে, রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়লে জনগণ কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে এটিও দেখিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শক্তি যদি জবাবদিহির বাইরে চলে যায়, তাহলে সাময়িক স্বস্তির বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও নৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য গ্রেপ্তারের সংখ্যা বা অভিযানের ব্যাপ্তিতে নয়। সাফল্য হলো এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে অপরাধী আইনকে ভয় করবে, সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় আস্থাশীল থাকবে এবং রাষ্ট্র নিজেও সংবিধান ও আইনের সীমা অতিক্রম করবে না।

লেখক : কলামিস্ট 

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ক্লিন হার্ট   পুনর্মূল্যায়ন   জননিরাপত্তা   রাষ্ট্রীয়   কঠোরতা   জরুরি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close