বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর, রিজার্ভ-রেমিট্যান্সে স্বস্তি       ● প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে       ● বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পাকিস্তান      ● ফেনীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      ● একদিনের সফরে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      ● প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার      ● অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দামে সুখবর, বাড়ছে না দাম      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
কৃষিতে উৎপাদনের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও জরুরি
মো. শাহীন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বহুকাল থেকে আমরা জেনে আসছি আমাদের দেশে খাদ্য শস্য উৎপাদনের জন্য যাথার্থ ভূ-মণ্ডল এবং আমরা এই দেশের শস্য উৎপাদনের মানদণ্ড মেপেছি উৎপাদনে, যদিও এটা খানিকটা যুক্তিযুক্ত ও আমাদের প্রধান খাদ্য শস্যের যোগান মেটাতে উৎপাদনের মাপকাঠি দিয়ে মাপা স্বয়ং সম্পূর্ণতাই শ্রেয়। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও উন্নত বীজের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্য আমরা কৃষি সাফল্যে আমরা নজির স্থাপন করতে পেরেছি, তবে আমরা যতটুকু উৎপাদন করি তার পুরোটাই কি ব্যবহার করতে পেরেছি এখন পর্যন্ত? 

যদি এটা মনে হয় যে কত টুকুই বা নষ্ট হয় তবে কাগজে-কলমে এই হিসাবটা কতটুকু এর মধ্য সীমাবদ্ধ নেই আর, ঘূর্ণিঝড়ে ফসল নষ্ট হওয়া, বন্যার পানির প্রবল চাপে ফসলের খেতগুলোর প্লাবিত হওয়া অথবা তাপদাহে ফসলের পরাগায়নক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। দীর্ঘ খরা মাটির নিচের পানির স্তর নিচে নামিয়ে দেয় এবং মাটির লবণাক্ত বাড়িয়ে দেয়। 

দেশের জিডিপির এক অষ্টমাংশ যোগান দেয় কৃষি ক্ষেত্র যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ লোক সরা জড়িত, তাই অর্থনীতির এই সেক্টরের গুরুত্ব অন্য যে কোনো সেক্টর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব ফসলের মাঠ পেরিয়ে বিস্তীর্ণ জীবন ব্যববস্থায় হানা দেয় কর্মসংস্থান, শিল্পের কাঁচামাল সরবারহসহ স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা খাতে প্রভাব ফেলে। ফলন কম হলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ে, দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, খাদ্যের যোগান দিতে মানুষ অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিতে এর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই শুধু মাত্র ফলন কেন্দ্রীক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষি উন্নয়নের মাপকাঠি থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়ে গেছে। 

জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের স্থান সপ্তম, পূর্বে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা কে অনিয়মিত বিপর্যয় এবং এর মাধ্যমে হওয়া ফসলের ক্ষতিকে সাময়িক ব্যাঘাত হিসাবে ধরা হলেও সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ঘূর্ণিঝড় বন্যাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে বছরের প্রত্যেক ফসলের মৌসুমেই হানা দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার ফলে এটাকে আর সাময়িক বিপর্যয় বলার সুযোগ নেই এবং এখনই এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণে উপায় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণও এই রূপান্তরের পক্ষে জোরালোভাবে দাঁড়িয়ে। 

আইপিসিসি দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনশীলতা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, আর বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা কৃষিকে দেশের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুকিপূর্ণ খাতগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ব্রি ও বারিসহ গবেষণা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবিত জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত, উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং সম্প্রসারিত ডিজিটাল পরামর্শ সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। তবু এসব উদ্যোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। 

জলবায়ু তথ্য, কৃষি সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিকে একটি সমন্বিত কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় আনা এখন অপরিহার্য। যাতে করে উৎপাদিত ফসল এবং এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে আসে। জলবায়ু-ঝুকিতে থাকা বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যে সমন্বিত কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। 

অস্ট্রেলিয়া জলবায়ু পূর্বাভাসকে খামার পর্যায়ের সিদ্ধান্ত সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করেছে; নেদারল্যান্ডস দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশলের মধ্যে পানি ও কৃষি পরিকল্পনাকে একীভূত করেছে; আর ভিয়েতনাম মেকং ব-দ্বীপে সহনশীলতা জোরদার করতে ভূমি ব্যবহার, পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের সহায়তাকে এক সুতোয় বেঁধেছে। তাদের এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে নীতিনির্ধরণের পাশাপাশি দ্রুত এবং মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলো ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।

ঝুঁকি হ্রাস এবং সার্বিকব্যবস্থাপনার জন্য কি তবে কি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে?

সেরকম প্রয়োজনীয় এখনো তৈরি হয়নি, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি ইতোমধ্যে, এখন দরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়, আবহওয়ার পূর্বাভাস, সেচ, জ্বালানি তেলসহ কৃষিতে প্রয়োজনীয় সকল অংশীদরিত্বদের একযোগে কাজ করতে হবে। জলবায়ুজনিত কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ হওয়ার পর পূর্নবাসন থেকে উত্তরিত হয়ে ভাবতে হবে আগে থেকে কিভাবে ফসল রক্ষা করা যায়। জলবায়ুভিত্তিক পরিকল্পনায় ফসলের পঞ্জিকা, সেচ, বীজ বিতরণ ও সম্প্রসারণ সেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা উচিত মৌসুমি পূর্বাভাস, জলবিজ্ঞান-সংক্রান্ত উপাত্ত ও জলবায়ু প্রক্ষেপণ। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সময়মতো ও এলাকাভিত্তিক পরামর্শ পৌঁছে দিতে হবে।

সমানভাবে জরুরি হলো শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়। কৃষি, পানিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে একটি অভিন্ন কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় কাজ করতে হবে, যা তথ্য বিনিময় ও আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সম্ভব করবে। বাংলাদেশের উচিত সূচকভিত্তিক ফসল বিমা, আকস্মিক তহবিল ও অন্যান্য ঝুঁকি-ভাগাভাগির ব্যবস্থার মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি অর্থায়নও সম্প্রসারণ করা। 

বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তর সত্যিই অসাধারণ। বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অন্যান্য পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখেও এত দ্রুত খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পেরেছে, এমন দেশ খুব কমই আছে। তবু অগ্রগতির পরবর্তী ধাপ শুধু বেশি ফলন বা চাষাধীন জমির পরিমাণ দিয়ে মাপা যাবে না। জলবায়ু অনিশ্চয়তার এই যুগে সাফল্য বিচার করতে হবে এভাবেও : খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ জীবিকা বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস না করে দেশ কতটা কার্যকরভাবে জলবায়ুজনিত আঘাতের পূর্বাভাস দিতে, তা সইতে এবং তা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে।

লেখক : কৃষিবিদ

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কৃষি   উৎপাদন   ঝুঁকি   ব্যবস্থাপনা   জরুরি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close