বাইরে বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা—‘১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। চোখে পড়ার মতো নতুন ভবন। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো। রয়েছে পৃথক ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ চিকিৎসাসেবার নানা সুযোগ-সুবিধা। নতুন ভবন দেখে যে কেউ ভাববেন, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার হাসপাতাল।
কিন্তু ভবনের ভেতরের বাস্তবতা সেই চিত্রের সঙ্গে মেলে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় ১০০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও বাস্তবে এখনো ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়েই চলছে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার। তালাবদ্ধ পড়ে আছে অপারেশন থিয়েটার। হাসপাতালে থাকা এক্স-রে মেশিনটি রোগীর কাজে আসছে না টেকনিশিয়ান না থাকায়। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল না থাকায় নিয়মিত সেবা বন্ধ।
ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে ছুটতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কটিয়াদীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর। ২০২৪ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নতুন ভবনে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কক্ষ, অপারেশন থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। কিন্তু ভবন নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল। ফলে অবকাঠামো ১০০ শয্যার হলেও হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো ৫০ শয্যার সক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের অনুমোদন নিয়ে নতুন ভবনের দুটি ফ্লোর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নতুন ভবন ব্যবহার শুরু হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়েনি। অর্থাৎ নতুন ভবনে রোগীদের জন্য জায়গা তৈরি হলেও সেই অনুপাতে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, কটিয়াদী উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৬৬ জন। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মনোহরদী, বাজিতপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষও কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত বড় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার বিপরীতে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যার জন্য অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৪টি। এর মধ্যে কর্মরত ১৪ জন। আবার কর্মরত চিকিৎসকদের তিনজন অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকায় কটিয়াদীতে সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র ১১ জন।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭৫ জন চিকিৎসক। অর্থাৎ ১০০ শয্যার অবকাঠামো চালু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক কাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত চিকিৎসকদের তিনজন বর্তমানে অন্যত্র সংযুক্তিতে রয়েছেন। তারা হলেন—কনসালট্যান্ট ডা. ফাহিমা আহমেদ, মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. তন্নী।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে যোগদানের পর থেকেই কনসালট্যান্ট ডা. ফাহিমা আহমেদ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. তন্নী চলতি বছরের আগস্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন। আর ডা. গোলাম কিবরিয়া কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার চিকিৎসক হওয়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় কার্যকর চিকিৎসকের সংখ্যা আরও কমে যায়।
হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ থাকা। নতুন ভবনে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। রয়েছে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামও। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেখানে নিয়মিত অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। ২০২৪ সালে সর্বশেষ সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছিল। এরপর থেকে গাইনি, সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে অপারেশন থিয়েটারটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অবকাঠামো থাকলেও সেটিকে সচল রাখার মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।হাসপাতালের ১০টি কনসালট্যান্ট পদই শূন্য বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার। বিশেষ করে সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের কনসালট্যান্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গর্ভবতী নারীর সিজারের প্রয়োজন হলে তাদের অন্য হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন অন্যান্য রোগীকেও রেফার করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে এক্স-রে সেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে টেকনিশিয়ান চলে যাওয়ার পর থেকে সেবা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নেই। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়ে আনতে হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজন হলে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল না থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারীরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে হলে তাদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ২১৫ জন রোগী। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫০ জন। ইনডোর ও অন্যান্য সেবায় রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৪৯ জন। ওই মাসে ৭৮টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভর্তি ছিলেন ৬৬ জন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ৪৩১ জন রোগী। এ সময়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এক্স-রে করতে আসা রোগী বদরুজ্জামান বাবুল বলেন, “১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখনো ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩৪ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও আছেন মাত্র ১১ জন। কটিয়াদীর পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার রোগীও এখানে আসেন। ফলে চিকিৎসকদের ওপর চাপ অনেক বেশি।”
তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা হলে আমরা আরও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পেতাম। সরকারের কাছে দ্রুত জনবল বাড়ানোর দাবি জানাই।”
চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম আক্তার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। ডাক্তার দেখানোর পর আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের বাড়তি খরচ হয়।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাদিরা বেগম বলেন, “হাসপাতালে অপারেশন হয় না বলে শুনেছি। গর্ভবতী নারীদের অনেক সময় সিজারের প্রয়োজন হয়। তখন ক্লিনিকে যেতে হয়। এখানে যদি ডাক্তার, অ্যানেস্থেশিয়া ও অপারেশনের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমাদের জন্য উপকার হতো এবং খরচও কম হতো।”
তপন সাহা বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসক কম থাকায় অনেক সময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে যেতে হয়। কটিয়াদী অনেক বড় উপজেলা। আশপাশের এলাকার মানুষও এখানে আসে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের অন্য জায়গায় যেতে হতো না।”
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের। মরিয়ম আক্তার বলেন, “হাসপাতালের পরিবেশ খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে গেলে দুর্গন্ধে টেকা কঠিন। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। মশা-মাছির উপদ্রবও রয়েছে। তার অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে এসে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া বলেন, “বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখানে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন। কিন্তু রোগীর চাপ অনেক বেশি হওয়ায় একা সব রোগী সামলানো কঠিন। আরও একজন শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হলে রোগীরা ভালো সেবা পেতেন।”
তিনি বলেন, “১০০ শয্যার হাসপাতাল নামেই আছে, বাস্তবে ১০০ শয্যার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা দরকার।”
রোগীর স্বজন প্রিন্স আব্দুল আজিজ বলেন, “হাসপাতালে সিজারের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সিজার করা হচ্ছে না। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি।”
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৪টি। কর্মরত আছেন ১৪ জন। এর মধ্যে তিনজন অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকায় সরাসরি সেবা দিচ্ছেন ১১ জন। অথচ প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ জনের বেশি এবং অন্তর্বিভাগে গড়ে ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নেন।”
তিনি বলেন, “কটিয়াদীর পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসায় রোগীর চাপ অনেক বেশি।”
এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই।”
অপারেশন বন্ধ থাকার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাসপাতালের ১০টি কনসালট্যান্ট পদই শূন্য। বিশেষ করে সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়ার কনসালট্যান্ট না থাকায় অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “১০০ শয্যার কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। শূন্য পদগুলোর অন্তত ৫০ শতাংশ জনবল এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া গেলে রোগী রেফারের সংখ্যা কমবে এবং এই হাসপাতাল থেকেই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আরও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, জনবল সংকট শুধু কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়, পুরো দেশেই রয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লেখালেখি করার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে চিকিৎসক সংকট কাটবে বলে আশা করছি।”
১০০ শয্যার ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সারা দেশে এ ধরনের প্রায় ১৩টি ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটিতে জনবল অনুমোদন পেয়েছে। কটিয়াদীর ভবনটি চালু এবং প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “গত পরশুদিনও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলে এসেছি। দ্রুতই এক্স-রে অপারেটর আসবে। গতকালও টিএইচও সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি। এসব সংকট সারা দেশেই রয়েছে।”
কেকে/সাশ