প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে এসেছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাকে বহনকারী গাড়িবহর ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছায়।
দিনব্যাপী এ সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
ফেনী পৌঁছানোর পর সড়কের দুই পাশে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকার উদ্দেশে রওনা হন।
সফরের শুরুতেই পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ রয়েছে।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, বিকাল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী ছাড়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। পরে রাত ৯টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেনীতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সফরকেন্দ্রিক এলাকাগুলোকে কয়েকটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটি তার প্রথম সফর। এর আগে ২৫ জানুয়ারি দীর্ঘ সময় পর ফেনীতে এসেছিলেন তারেক রহমান। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার ফেনী সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকলেও পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
কেকে/এআই