মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সাইবার অপরাধ মামলায় সরকারি গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী বাবুল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে শহরের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাবুল আহমদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাবুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার একদল পুলিশ তাদের বাসায় যায়। পুলিশ সদস্যরা ওসি ডেকেছেন জানিয়ে বাবুলকে সঙ্গে যেতে বলেন। এ সময় হৃদরোগে আক্রান্ত বাবুল তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সকালে নিজে থেকেই থানায় যাওয়ার কথা বলেন। তবে পুলিশ তাকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, “থানায় নেওয়ার পর বাবুলকে লকআপে রাখা হয়। মাঝরাতে সন্তানদের নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান করলেও গ্রেপ্তারের কারণ বা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। পরে তাকে মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়।”
স্বামীর মুক্তি দাবি করে আনোয়ারা বেগম বলেন, তার স্বামী নির্দোষ। বিগত সরকারের সময়ও বাবুল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন। এখন কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বাবুলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিক্রিয়া জানান। বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে বাবুলের গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার মুক্তি দাবি করেন।
ইসলামী ছাত্রঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের নেতা মো. মুজাহিদুল ইসলামও বাবুলের মুক্তি দাবি করেছেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বাবুল রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহীন আহমেদ বলেন, বাবুল একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রস্বীকৃত জুলাই যোদ্ধা। তার গ্রেপ্তারে পরিবার, বিশেষ করে সন্তানরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী বলেন, বাবুল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি না করে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘সাইবার অপরাধ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
কেকে/সাশ