৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম আসেনি নীলফামারীর মেধাবী শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গেজেটে তার নাম না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আবু হোসেন একজন কৃষক এবং মা সাহিদা বেগম গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে সোহেল চতুর্থ।
শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সোহেল। ২০১৪ সালে সোনারায় সংগলশী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
সম্প্রতি ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে তার নাম না থাকায় সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হতাশা।
পিএসসির প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। এতে সাময়িকভাবে মনোনীত ৫৭ জনের নাম গেজেটে স্থান পায়নি।
গেজেটে নিজের নাম না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহেল রানা। তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ, বাংলাদেশ ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ১ম হয়েও আমাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য।”
তবে সোহেল রানাসহ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে না থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
কেকে/ এমএস