চাকরি মানেই মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন ও সামান্য সম্মান—ভালোভাবে জীবন পরিচালনার এক পরিকল্পনা। মাসের বেতন দিয়ে সংসারের চাহিদা মেটানোসহ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, বাবা-মায়ের চিকিৎসা খরচ—সবই নির্ভর করে বেতনের ওপর। কিন্তু এই বেতন যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে তাদের পরিবারের অবস্থা কেমন হতে পারে এবং কীভাবে চলবে তাদের সংসার?
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত সাত মাসের বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে পৌরসভার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন তারা। তাদের দাবি, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
পৌর স্বাস্থ্য সহকারী লাবলী আক্তার জানান, বিগত সময়ের পাঁচ মাসের বেতন এবং বর্তমানের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ফলে তারা সংসার চালাতে পারছেন না। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর ছামিউল ইসলাম সৌরভ বলেন, পৌর প্রশাসক তার নির্দিষ্ট কক্ষে বসেন না। নিচে এসে গাড়ির হর্ন দিলে তারা নেমে এসে হাজিরা দেন। এতে নিজেদের খুব ছোট মনে হয়। উপজেলায় তার কার্যালয়ে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তারা যে তার অধীনস্ত, সেটিও তিনি মনে করেন না। সব সময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রশাসককে চাই না।’
কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নকশাকারক মো. মামুন সরকার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য দাবি—বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন। বেতন না পাওয়ায় কর্মচারীদের ভেতরের চাপা ক্ষোভ আজ প্রকাশ পেয়েছে। রাজস্ব খাতে টাকা থাকা সত্ত্বেও বেতন দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে সহকর্মীরা অতিষ্ঠ। বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় পৌর প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান জানান, ইতিপূর্বে বেতন দেওয়ার সময় রাজস্ব খাত থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা পরিশোধ করে বেতন নিতে বলেছেন পৌর প্রশাসক। এ ছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমা না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তবে বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে।
পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মবিরতির বিষয়ে ফোন করলে প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।
কেকে/ এমএস