মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামীমা খন্দকারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা।
মানববন্ধন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে মৌলভীবাজার থেকে শাস্তিমূলক বদলির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
কমিশন না দিলে ফাইলবন্দি, ৮ মাস ধরে আটকে বিল
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ, নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মারুফ আহমদ প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিইও শামীমা খন্দকার জেলা পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। নতুন সড়ক নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, কালভার্ট, ব্রিজ, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নকাজের বিল পাস করাতে হলে তাঁকে নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন দিতে হয়। টাকা না দিলে কাজের কাল্পনিক ত্রুটি দেখিয়ে বিলের ফাইল আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা তোয়াক্কা না করে কালেক্টরেট স্কুল, কালেক্টরেট মসজিদ ও কোর্ট মসজিদের অজুখানার কাজ শেষ হওয়ার পরও গত আট মাস ধরে বিল আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি কাজের মেয়াদ এক বছর উত্তীর্ণ হলেও ঠিকাদারদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া সিডিউলবহির্ভূতভাবে নিজ ক্ষমতাবলে কাজের আইটেম পরিবর্তনে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
নিয়োগ বাণিজ্য ও ভুয়া ভাউচারের অভিযোগ
ঠিকাদারদের অভিযোগ, তৎকালীন উচ্চমান সহকারী এনামুল হকের মাধ্যমে কুলাউড়া, শেরপুর, শ্রীমঙ্গল ও মুন্সীবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার জলমহাল ও দোকানকোঠা থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা উৎকোচ গ্রহণ করতেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়া শ্রীমঙ্গল ও মাধবকুণ্ড ডাকবাংলোয় টাকার বিনিময়ে স্টাফ নিয়োগের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বিগত সরকারের শাসনামলে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমানের সহযোগিতায় ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়।
ষড়যন্ত্রের দাবি সিইওর
তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন ঠিকাদার পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। ওয়ার্ক অর্ডার (কার্যাদেশ) অনুযায়ী নিয়ম মেনেই বিল দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের ঘুষ বা আর্থিক অনিয়ম ঘটেনি।’
কেকে/এমএস