গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চাচাতো বোন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। অভিযুক্তরা তার চাচাতো বোন ও তার স্বামী।
অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের উম্মে কুলসুম শিল্পী (৪০), তার স্বামী জয় (৫০) এবং অজ্ঞাত চারজন। তারা রেকর্ডসূত্রে জমির মালিকানা দাবি করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ উল্লেখ করেন, কাপাসিয়া থানাধীন রায়েদ ও বেলাশী মৌজায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া ৩৭১.২৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার অন্যান্য ভাই মিলে ভোগদখল করে আসছেন। উম্মে কুলসুম শিল্পী তার চাচাতো বোন এবং জয় তার স্বামী। তারা তার ভোগদখলীয় জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক জবরদখলের পাঁয়তারা করে আসছেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানা পাওয়া ভোগদখলীয় জমিতে গেলে উম্মে কুলসুম শিল্পী ও তার স্বামী বাধা দেন। জমিতে থাকা বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা পারিবারিক প্রয়োজনে কাটতে গেলেও তারা বাধা দেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এসব ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বসে মীমাংসার জন্য বললেও তারা বসতে রাজি হননি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে সাজানো, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের লোকজনকে বিষয়টি অবগত করায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হন।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রায়েদ মৌজায় তাদের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা কাঁঠালগাছ কাটতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। তারা গাছ কাটতে বাধা দেন। তাদের বাধার প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করতে আসেন। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক জবরদখল করে নেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা আইনের আশ্রয় নিলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত উম্মে কুলসুম শিল্পীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, ‘চাচাতো ভাইবোনদের মধ্যে জমি দখল নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তাকে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের পর জমির প্রকৃত মালিক কে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
কেকে/ এমএস