শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বাংলাদেশকে ৯ গোল দিয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া      ● স্বৈরাচার-গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী      ● যাত্রা শুরু করল বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’      ● ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯৭৮      ● হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৪      ● সংরক্ষিত আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা      ● অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারায় কিছু দল : প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
পদত্যাগের নির্দেশ প্রশংসনীয়, কিন্তু এখানেই থামলে চলবে না
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন মিষ্টি—সেই পদটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। নিজ দলের একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, জনরোষ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সরকার অন্তত এবার উপেক্ষা করেনি।

তবে একটি পদত্যাগ দিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির অবসান হয় না। রাড্ডার ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ওষুধ, ভ্যাকসিন, টিকাদান কর্মসূচির নথি ও যন্ত্রপাতি লুট করে। পরে ভারী যন্ত্র এনে পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকারও বেশি।

ঘটনাটি বিচ্ছিন্নও নয়। কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর বাঘা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ‘কল্যাণ তহবিল’ নামে প্রতিটি দলিলে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ আছে, যা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকও হুমকির মুখে পড়েছেন। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এসব ঘটনাকে সরকারের জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চলমান ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন এসব ঘটনা। টিআইবি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন মন্ত্রী একাধিকবার চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার লেনদেন’ বলে মন্তব্য করলেও সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন নীরবতা অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।

গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার মূল প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান। নির্বাচনি অঙ্গীকারে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথাও বলা হয়েছিল। ক্ষমতার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় যদি দলীয় পরিচয়ে দখল ও চাঁদাবাজির এমন অভিযোগ বারবার সামনে আসে, তবে জনগণের আস্থায় চিড় ধরা অস্বাভাবিক নয়। সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে অতীতের স্বেচ্ছাচারী শাসনের অভিজ্ঞতা এখনো সতেজ।

আমরা মনে করি, রাড্ডার ঘটনায় গৃহীত পদক্ষেপ একটি ভালো শুরু হতে পারে, তবে শেষ নয়। এ প্রেক্ষাপটে সব ধরনের দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি:

রাড্ডার ঘটনায় দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে। পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কেউ যেন আইনি জবাবদিহি থেকে রেহাই না পান। অভিযুক্ত যে-ই হোন, আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

কিশোরগঞ্জ, ইসিবি চত্বর ও বাঘাসহ সারা দেশে দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিটি অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কারও জন্য রক্ষাকবচ না হয়, আবার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেউ যেন হয়রানির শিকারও না হন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপিকে নিজস্ব কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজিকে লঘু করে দেখার মতো কোনো বক্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে বরদাশত করা উচিত নয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হুমকির শিকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

আইনের সমান প্রয়োগই সুশাসনের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত যদি একটি ধারাবাহিক ও নিরপেক্ষ নীতির অংশ হয়, তবেই তা জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে। অন্যথায় এটি কেবল সময়োপযোগী একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই স্মৃতিতে থাকবে। কঠোরতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান পরীক্ষা।

কেকে/এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close