লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সাইনবোর্ডে বিএনপি নেতা ও মেয়র পদপ্রার্থীর নাম, ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়সংবলিত ব্যানার লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে রাজনৈতিক পরিচয় ও নির্বাচনি প্রার্থিতার তথ্যসংবলিত ব্যানার থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক তথ্যসংবলিত একটি সাইনবোর্ডে রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রামগতি পৌরসভা মেয়র পদপ্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের নাম, ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়সংবলিত ব্যানার রয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রচারণা সামগ্রী, যেমন—ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে রাজনৈতিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ছবির চেয়ে জনসচেতনতামূলক বার্তা এবং সরকারি কাজের মূল বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া।
বিষয়টি নিয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্যানার লাগানোর বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এখানে আমাদের সচেতনতামূলক কিছু ছবি আর্ট করা ছিল। তারা কখন সেটাকে তুলে এই ব্যানার লাগিয়েছে, আমার জানা নেই। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রামগতি পৌরসভা মেয়র পদপ্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন, তার নেতাকর্মীরা এটি লাগিয়েছেন।
বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা একজন ড্রাইভার জামাল শেখ জানান, এই ব্যানার আজ সাত দিনের বেশি সময় ধরে রয়েছে। কিন্তু কেউ তা দেখেনি। আরেকটি বিষয় হলো, হাসপাতালের আশপাশে আগে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছিল না। বর্তমানে কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলার পর হাসপাতাল ও দালালচক্রের কারণে রোগীদের হয়রানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যে যার মতো করে হাসপাতালকে ব্যবহার করছেন।
কেকে/ এমএস