অভিযোগ করে শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আবদুল করিম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বর্তমানে সরকারের আশ্রয়ে দুর্নীতি করছে। চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারের জন্য এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে।’
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশে শ্রমিক মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাবেশে আবদুল করিম আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের হয়ে মাঠ ও রুট পর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের একটি অংশ বর্তমানে নতুন সরকারের আশ্রয়ে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে পরিবহন খাতে দুর্নীতি করছে। পরিবহন খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। তবে দলীয় চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারের জন্য এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না, রাষ্ট্রীয় কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেগুলো চালুর কার্যকর উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বর্তমানে অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণ ধারণ করে দেশে নতুন করে নব্য ফ্যাসিবাদের সূত্রপাত হচ্ছে। অতীতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিগলি, বাস টার্মিনাল ও পরিবহন খাতে যারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্রে প্রতিদিন চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি হচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের দাম ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেশের প্রায় ১০ কোটি শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আবদুল করিম।
‘জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এসব বন্ধ করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় স্বার্থে প্রশাসন ব্যবহার করে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হবে না। শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী যুব মজলিসের সাধারণ সম্পাদক সোহাইল আহমদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ইসমাঈল খন্দকার, খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এইচএম এরশাদ প্রমুখ।
কেকে/এমএ