পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চিকিৎসক দেশের প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জরি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বায়েজিদ বোস্তামী। তিনি কুষ্টিয়ার প্রথম প্লাস্টিক সার্জন এবং বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক সার্জারির সর্বোচ্চ এমএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি মাইক্রো সার্জারিতেউচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্তরত আছেন।
প্রতিমাসে প্রথম শুক্রবার নিয়মিত নিজ এলাকায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কৈগাড়িপাড়া গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি এবং তার স্ত্রী ডাক্তার ফাহমিদা সুলতানা।
নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে মানবিকতার এক দৃষ্টান্তে। চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয়ের বাইরে মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতাই এখন এলাকার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মানবিকতার এই ছোট ছোট উদ্যোগই যে সমাজে বড় পরিবর্তনের বীজ বপন করতে পারে—প্রতিমাসের এই চিকিৎসাসেবা তারই জীবন্ত উদাহরণ।
নির্দিষ্ট দিনে আয়োজিত এ ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ, প্রবীণ ও অসচ্ছল রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তার এ উদ্যোগে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
ক্যাম্পে আসা এক রোগী বলেন, “টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। এখানে এসে বিনা খরচে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়েছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না, তাদের জন্য মাসিক এই বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও নিম্নআয়ের মানুষেরা এ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
অর্থের অভাবে যারা নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, তাদের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত সহায়ক। প্রতিমাসে চিকিৎসকের আগমনের অপেক্ষায় থাকেন এলাকার বহু মানুষ।
বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, “নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে পারা আমার কাছে দায়িত্বের পাশাপাশি আত্মতৃপ্তির বিষয়। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়াটাই আমার কাছে বড় বিষয়। আমি মনে করি, একজন চিকিৎসকের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারলে তার চেয়ে বড় সামাজিক দায়িত্ব আর কিছু হতে পারে না। আমার এলাকার কোনো মানুষ যেন শুধু অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এটাই আমার চেষ্টা। যতদিন সম্ভব, নিয়মিত এই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”
স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসকের এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদানই নয়, বরং সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে এগিয়ে আসতেও অনুপ্রাণিত করছে। নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা।
কেকে/এমএ