রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে গচিহাটা বাজার থেকে মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গচিহাটা বাজার এলাকায় এসে শেষ হয়।
এ সময় মিছিলকারীরা আখতারুজ্জামান রঞ্জনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আবু হানিফ, সাধারণ সম্পাদক আরজু মিয়া, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান শাহ, উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, চান্দপুর ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোতাহার উদ্দিন, গচিহাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনসহ জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের ভোগান্তি ও সেবার নানা অনিয়ম নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা অনিয়মের বিষয়ে কথা বলার কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, আখতারুজ্জামান রঞ্জনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজকের এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। অবিলম্বে আখতারুজ্জামান রঞ্জনের মুক্তির দাবি জানান তারা।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন। মামলাটি বিমানবন্দর থানায় ৬ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
একই দিন বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক।
মামলার আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান। এর পরদিন শুক্রবার তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। পরে একই দিন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
কেকে/সাশ