লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। পরিস্থিতি ও অভিযানের পরিধি অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি যোদ্ধাকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো শুধু বাব আল-মান্দাবের আশপাশের এলাকায় সীমিত অভিযান চালানো। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক অঞ্চলে সমন্বিতভাবে হামলা চালানোর কথা রয়েছে।
গত মাসে হুথিরা উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে। প্রণালিটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ এবং ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌরুট। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় এক কর্মকর্তার দাবি, বাব আল-মান্দাব হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসতে চাইছে না রিয়াদ। তবে অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে অভিযান; আবার নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা গড়াতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকেও সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে রিয়াদ। পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠিয়েছে বলে পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফ্রান্সও সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ইয়েমেনে স্থল অভিযান পরিচালনায় সৌদি আরবকে স্থানীয় বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব বাহিনী বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইয়েমেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত অনেক স্থানীয় বাহিনী এখনো যথেষ্ট সংগঠিত বা প্রস্তুত নয়।
সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি শিহাবিও বলেছেন, পরিকল্পিত অভিযানের ফল অনেকটাই নির্ভর করবে ইয়েমেনি স্থলবাহিনীর কার্যকারিতার ওপর।
কেকে/সাশ