বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হইহুল্লোড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল মাগুরার শালিখা উপজেলার ফটকি নদী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বড়শলই গ্রামের ফটকি নদীর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষেরা। নৌকার প্রতিযোগিতা ঘিরে নদীপাড়ে বসে গ্রামীণ মেলাও।
গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকাবাইচে অংশ নেয় বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি নৌকা। প্রতিযোগিতায় শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর এলাকার নৌকা প্রথম, মাগুরা সদর উপজেলার বাগেরহাট গ্রামের নৌকা দ্বিতীয় এবং শালিখা উপজেলার মনোখালীলি গ্রামের নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থের পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন তরুণদের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি নির্মল বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে।
তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তাদের রক্ষা করা জরুরি। কারণ, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের দেশের ভবিষ্যৎ।”
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ফটকি নদীর দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন দেশীয় পণ্য, খাবার ও নানা সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। মানুষের উপস্থিতিতে পুরো নদীপাড়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। নৌকাবাইচ দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এসেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় নদীমাতৃক বাংলার গ্রামীণ জনপদে নৌকাবাইচ ছিল জনপ্রিয় বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। আধুনিকতার প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফটকি নদীতে নিয়মিত নৌকাবাইচ আয়োজন করা হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এ লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
কেকে/সাশ