ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে শিগগিরই এ ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন কমিটি ঘিরে ইতোমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তের বিষয়টি জানানো হয়।
এরপরই নতুন কমিটি হওয়ার আলোচনা চলছে ছাত্রদল নেতাদের মুখে মুখে। বলা হয়েছে, যে কোনো সময়ে হতে পারে মহানগর ছাত্রদলের পশ্চিম শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি করা হয়েছিল মো. রবিন খানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল আকরাম আহমেদকে।
পরবর্তী চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ইউনিটটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই এবার ইউনিটটির কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
নতুন কমিটি নিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার সঙ্গে। তারা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, অতিদ্রুত ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।
এবারের কমিটিতে সর্বোচ্চ সম্মানিত পদ পাবে বিগত সময় আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ত্যাগ ও ভূমিকা ছিল।
আগামীতে নতুন কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে গোলাম মাওলা গোলাম খোলা কাগজকে জানান, বর্তমানে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অতি শিগগিরই নতুন কমিটি হবে। তবে দল যাকে যে পদ দেবে, তা হয়তো নেতাকর্মীদের ভালোর জন্যই হবে। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো—এটাই আমার প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৯৮ সদস্যের কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০২১ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০২২ সালের ১০ মে ১ নম্বর সহ-সভাপতি এবং ৭ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি হই।’
দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নেতা আকরাম আহমেদ এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০২১ সালের ১১ আগস্ট ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময়ে ৭ বার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করি।
তার দাবি, রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা ২৪টি। ২০১৫ সালে অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের গুলিতে ডান পায়ের হাঁটুর জয়েন্টে গুলিবিদ্ধ হন এবং আহত অবস্থায় প্রায় ৭ মাস কারাভোগ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংগঠনকে গতিশীল করতে রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছি। দল যদি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়, অবশ্যই আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবো।
রাজা আহমেদ মিন্টু খোলা কাগজকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকে কাজ করেছেন। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ‘শেরেবাংলা নগর থানার সাবেক ৪১ ও বর্তমান ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। এ ছাড়া ২০১৭ সালে গঠিত ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তী ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদমর্যাদার দায়িত্ব পালন করে মানুষের পাশে থেকে সেবা করেছি।
বর্তমানে তিনি শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে দল বিবেচনা করে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিলে সততার সঙ্গে পালন করবো।’
এ দিকে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন নিলয় বলেন, ‘৪২.১, ১৫ সেই মামলার প্রধান আসামি বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই মামলার ৬ নম্বর আসামি ছিলাম। একাধিকবার কারাভোগ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এখন পর্যন্ত মাঠে রয়েছি। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-বিএনপিকে মনে-প্রাণে ধারণ করি। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে এসেছি। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বিএনপি দল সরকার গঠন করেছে। আমরা দলের হয়ে কাজ করছি। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে পদ পেলেও কাজ করছি, না পেলেও কাজ করছি। এটাই আমার আদর্শ। তবে আমাকে দল যদি সঠিক মূল্যায়ন করে সভাপতির পদ দেয়, তাহলে দলের আদর্শ বুকে ধারণ করে দলকে এগিয়ে নেবো, এগিয়ে যাবো।’
মোহাম্মদপুর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ করার বেশ কয়েকটি ঘটনা রয়েছে, তার নেতৃত্বে এ সব প্রতিরোধ হয়েছে। মোহাম্মদপুর এলাকাটি আওয়ামী লীগের মিছিল, অরাজকতা ঠেকানোর একমাত্র ব্যক্তি মোতাহার। তাই তাকেও দল সেভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কর্মীরা। এ ছাড়াও তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদ্য-সাবেক ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পশ্চিম ছাত্রদলের শাখা কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আরও রয়েছেন যারা। তারা হলেন ইকবাল সোহেল, কাওসার খান, সৈয়দ নেছার উদ্দিন রুজেন, কাজী শাওন আলম, শহীদুল ইসলাম ও জাকারিয়া খান সিজারসহ একাধিক তরুণ ছাত্র নেতা।
ছাত্রদলের একাধিক ছাত্র নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করে যাচ্ছেন। যে যেভাবে পারছেন জাতীয় পর্যায়ের ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ছাত্রদলের একাধিক নেতা কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে নতুন নেতা নির্ধারণ করবে দলটি। এমনটাই জানিয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা।
আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা ছিল সামনে থেকে এবং কারা নির্যাতন, হামলা-মামলায় নির্যাতনের কথা বিবেচনায় রেখে এবারের কমিটি হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বস্ত সূত্র।
কেকে/এআই