সুগন্ধি, প্রসাধনী থেকে ধর্মীয় আচার—বহু শতাব্দী ধরে মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে চন্দন কাঠ। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র এ কাঠ। পূজা-পার্বণ, তিলক ও চন্দনের ফোঁটা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি সুগন্ধি, সাবান, প্রসাধনী, ধূপ ও বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
চন্দনের বহুল পরিচিত প্রজাতি সাদা বা ভারতীয় চন্দন, যার বৈজ্ঞানিক নাম Santalum album L. কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রজাতির আদি বিস্তৃতি জাভা, লেসার সুন্দা দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন অঞ্চলে।
বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীনসহ বিভিন্ন দেশে এটি প্রবর্তিত বা চাষ করা হয়েছে।চন্দনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হলো সুগন্ধযুক্ত হৃদকাঠ। এ অংশ থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তা সুগন্ধি ও প্রসাধনী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাঠ দিয়ে কারুকাজ ও বিভিন্ন সৌখিন সামগ্রীও তৈরি করা হয়।
ধর্মীয় গুরু জীবন সাহা বলেন, ‘চন্দন আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি পরিচিত ও পবিত্র উপাদান। পূজা, তিলক ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের।’
স্কুল শিক্ষক অপূর্ব কর্মকার বলেন, ‘চন্দনের সুগন্ধ আলাদা ধরনের। ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি এখন চন্দন দিয়ে তৈরি নানা প্রসাধনী ও সুগন্ধি সামগ্রীও বাজারে পাওয়া যায়।’
ফরিদপুরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কসমেটিক ও মুদিখানার দোকানে চন্দন কাঠ, গুঁড়া ও চন্দনজাত পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়।
কেকে/এআই