কক্সবাজারের কলাতলী প্রধান সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনভর চলা অভিযানে বাস কাউন্টার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কলাতলী প্রধান সড়কের দুপাশে সওজের প্রায় ছয় একর জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। শনিবার সকালে যৌথভাবে অভিযান শুরু করে প্রশাসন। কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বুলডোজার দিয়ে এ সব স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে দূরপাল্লার বাসের কাউন্টার, খাবারের দোকান, হোটেল ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন দখলে থাকা সড়কের জায়গার একটি অংশ উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে।
তবে কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদের সময় মালিকদের আপত্তির মুখে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। কেউ কেউ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চান। পরে সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী অবশ্য অভিযোগ করেছেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আগাম মাইকিং বা যথাযথভাবে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তারা। তাদের একজন ছৈয়দ নুর জানান, মাত্র একমাস আগে ধারদেনা করে দোকানটি চালু করেছিলেন। দোকানটি ভেঙে দেওয়ায় তার পরিবারের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। অভিযান সম্পন্ন হলে যানজট কমার পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলও সহজ হবে।
পর্যটন ব্যবসায়ী শহিদুল ইমরান বলেন, ‘সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে ওঠায় পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ছিল। উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও সওজের যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সওজের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ কারণে সওজের জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে আবার কলাতলী মোড় পর্যন্ত অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার নগরী গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অভিযান লিংক রোড পর্যন্ত চালানো হবে।
সওজের কক্সবাজার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক জানান, জাতীয় মহাসড়ক আইনের আওতায় সড়কের রাইট অব ওয়ে থেকে উভয় পাশে ১০ মিটার এলাকার মধ্যে নির্মিত স্থাপনা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি দাবি করেন, উচ্ছেদের আগে মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেকে/এআই