রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তকিপল হাটে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন (বিজিসি) অবকাঠামো নেই বিলীন অস্তিত্বে একটুকরো ধ্বংসাবশেষ। তবে একমাত্র সাইনবোর্ড পাহারা দিয়েই মাসের পর মাস পাচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। শুধু নিরাপত্তা প্রহরী পদে আসীন থেকে গিলছে টাকা কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব পালন করতে হয় না। এতে সরকারি টাকা গচ্ছা গেলেও সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো হুঁশ। এ যেন ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ প্রবাদের বাস্তব রূপ!
জানা যায়, ১৯৮৫ সালে সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন (বিজিসি) কাউনিয়া পাট ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম চালু হয়। তৎকালীন সময় থেকে অন্তত এক দশক ধরে ধুমধাম করে পাট ক্রয় ও প্রক্রিয়াকরণ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও ১৯৯৩ সালে সরকারের এক অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিলুপ্ত করা হয়।
পরবর্তী আইনী জটিলতা ও মালিকানা দাবির প্রেক্ষিতে জমিজমা বেদখল এবং ধাপে ধাপে বিস্তৃত এ জুট মিলের অবকাঠামোসহ যন্ত্রপাতি হারিয়ে যেতে যেতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, তকিপল হাটের কসাইখানার পিছনে আগাছায় ভরপুর ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে একটুকরো লৌহ ধ্বংসাবশেষ, একটি ভঙ্গুর টিনের চালা ঘর আর কালের সাক্ষী জরাজীর্ণ এক সাইনবোর্ডে লেখা— ‘এই সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন।’ স্থানটিতে মলমূত্র ত্যাগ ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অথচ প্রায় ত্রিশবছর যাবৎ পরিত্যক্ত জায়গাটি পাহারার নামে আদিষ্ট থাকেন এক নিরাপত্তা প্রহরী, খেয়াল নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে কি পাহারা দিবে, আছেই বা কি! তবে এক ব্যক্তি মাঝেমধ্যে এসে ঘুরে যেতে দেখা যায়।
বর্তমানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিজিসির কাউনিয়া জায়গাটি ছোট সম্পত্তি প্রেস (পাট প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র) ছাড়া কিছু নাই বেশিরভাগ বেদখলে গেছে। ওখানে থাকার মতো পরিবেশও নাই, মাঝেমধ্যে গিয়ে জায়গাটুকু ঠিক আছে কি-না পরিদর্শন করে আসি রাতে থাকিনা। এ ছাড়া আমাকে তিন জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বিজিসি রংপুরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান মন্ডল জানান, নিরাপত্তা প্রহরী আগে যিনি ছিলেন ওখানে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এখন যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে তিন জায়গার দায়িত্বে রয়েছে। লোকবল সীমিতর কারণে চক্রাকারে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সম্পত্তির ৬০ শতাংশের মধ্যে ৪০ শতাংশই বেদখলে গেছে অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আছে। সম্পত্তিটি জেলা প্রশাসকের একক রেকর্ডে খাস খতিয়ানের ফলে মামলা করে ওখানে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এ দিকে সরকারি অর্থের এমন অপচয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জনবল ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে জনমনে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
কেকে/এআই