সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● এবার বাড়ল অটোগ্যাসের দাম      ● প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় হবে মাস্টারপ্ল্যান : প্রধানমন্ত্রী      ● হাম উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১২৫      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ছয় মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৬২      ● এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম      ● গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৈরি হয় : রাষ্ট্রপতি      ● সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, মোটরসাইকেলেই ১৩৯      
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্য থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ স্থায়ী ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে আকস্মিকভাবে বোমারু বিমান প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘাঁটিটি থেকে সব বোমারু বিমান প্রত্যাহারের ঘটনায় এর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে ঘটে যাওয়া একটি নিরাপত্তা ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই দিন বিমানঘাঁটির আশপাশে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশকে সতর্ক করা হয়। সম্ভাব্য নাশকতা বা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। তারা সবাই যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং লন্ডনের বাসিন্দা।

পরে এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক বলে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার ছয়জনকেই পরবর্তী সময়ে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে। হোয়াইটহলের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও ঘটনার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য যোগসূত্র নাকচ করেনি।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান প্রত্যাহার কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং সম্ভাব্য অভিযানিক ঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

এদিকে ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় ইরানের সরাসরি ভূমিকার পক্ষে জোরালো আলামত ও ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত বিস্মিত। তার দাবি, অভিযুক্তদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে এবং তারা মার্কিন এখতিয়ারে থাকলে কাউকে মুক্তি দেওয়া হতো না।

একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে স্পষ্টতই কোনো শক্তিশালী বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সংবেদনশীল তথ্যের কথা উল্লেখ করে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও ঘটনাটিকে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বি-৫২সহ দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর ঘাঁটিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে যুক্তরাজ্যের সম্মতির পর এখান থেকেই মার্কিন বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করছিল।

এমন পরিস্থিতিতে গত জুলাইয়ে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফলে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহারের ঘটনা শুধু একটি সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  যুক্তরাজ্য   বোমারু বিমান   যুক্তরাষ্ট্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close