২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার, সুবিধাভোগীদের প্রভাব এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা হয়ে পড়ার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। রাজধানীর দুই সিটি থেকে সারা দেশে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের নানা অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়ছে দলটির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সুবিধাভোগী একটি অংশের প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়ছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক পদক্ষেপও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি বিলুপ্তি ও নেতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দল। সামনে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এমন পরিস্থিতিতে সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচনি রাজনীতিতে বিএনপিকে এর মাশুল দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর উত্তর কমিটি বিলুপ্তির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। একই সময় পল্লবী থানার অধীন ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সংরক্ষিত আসনের এমপির পদত্যাগ ও কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। তবে এটিকে শুধু এড-হক বা বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, সব রাজনৈতিক দলের ব্যাপক আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মপরিকল্পনার সূচনা হিসেবে দেখা উচিত। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সব জনপ্রতিনিধির জন্য যুগোপযোগী ও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন করতে হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংগঠন ও সরকারের ভাবমূর্তিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ কম। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সম্পত্তি দখল কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে তা বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং নাগরিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হবে।
তাদের মতে, বিশেষ করে গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের নিরাপত্তা, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং সম্পত্তির বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পল্লবী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আনিসুর রহমান এবং শাহাদাতের কথোপকথন বলে দাবি করা একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গার্মেন্টস, কারখানা ও সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। অডিওতে শোনা যায়, ‘আমার কথা হল আমার কি করতে হইবো বইলেন আর আমিনুল ভাইরে আমার সালাম দিয়েন।’ ‘তবে তারা যাতে একচাটিয়া না খাইতে পারে একচাটিয়া না খাইতে পারে ওই ব্যবস্থা করেন। ‘সেটা তো করমু বললাম তো, আপনি যোগাযোগ রাইখেন। আরও আমাদের দলীয় লোকজন যারা আছে তাদের সাথে রাইখেন। আর আমিনুল ভাই বইলেন আমাদের হেল্প করতে, প্রশাসনিকভাবে যেন হেল্প করে উনি। আমাদের ছেলেপেলে কোন কিছু হলে আমার কথা বুঝতে পারছেন তারেকের ইয়া প্রজেক্ট যে যে প্রজেক্ট আছে গার্মেন্টস আছে এগুলি আমরা লোক দিয়ে করাবো কিন্তু উনার প্রশাসন দিয়ে হেল্প করতে হবে।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রভাব
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপির জন্য স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অসন্তোষ, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্যের অভিযোগ এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচনি মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোও এসব অভিযোগকে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অভিযোগ সামনে আসছে, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। জামায়াতের ‘বানোয়াট বাহিনী’ এসব অভিযোগ বেশি বেশি প্রচার করছে। এসব অভিযোগ আসন্ন নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি এসব অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেও কোনো অভিযোগ সামনে আসামাত্র দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এসব অভিযোগ নির্বাচনে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।’
চাঁদাবাজির অভিযোগে খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আটক
চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পুলিশ বলছে, আটক শাহিনুর রাজধানীর খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। গতকাল রোববার এসআরবি-১-এর একটি দল শাহিনুরকে আটক করে। পরে তাকে খিলক্ষেত থানায় সোপর্দ করে। পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মিন্টোরোডের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোরহাব আল হোসেন জানান, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে শাহিনুরকে আটক করে এসআরবি। আটকের পর এসআরবি তাকে খিলক্ষেত থানায় হস্তান্তর করে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২০ বছর আগে খিলক্ষেত এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের নিচে রেলওয়ের জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেয় একটি প্রতিষ্ঠান। শাহিনুরের ইন্ধনে ওই জমিটি সম্প্রতি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নামে একটি চক্র দখল করে প্রথমে খেলার মাঠ হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি সেখানে ভবন ও ওয়াশরুম নির্মাণ কাজ শরু করে।
হিলিতে চাঁদাবাজি-হুমকির অভিযোগ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার খাটাউচনা বাজারে চাঁদাবাজি, দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহাদত হোসেন শাদো।
গতকাল রোববার হাকিমপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহাদত হোসেন অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া, মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর কয়েক দফায় বিভিন্ন দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি দোকান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দোকান দখলের উদ্দেশ্যে তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নামে থাকা সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।
পল্লবী-রূপনগরের রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ
এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে পল্লবী ও রূপনগর এলাকার দলীয় রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। তার দাবি, দলের দুর্দিনে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তারা এখন উপেক্ষিত; বিপরীতে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ঘিরে থাকা একটি অংশ প্রভাব ও সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।
চিঠিতে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মন্টু, পল্লবী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিস এবং সাবেক কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন মোল্লাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তার দাবি, পল্লবী ও রূপনগরের দলীয় কার্যক্রমে তাদের প্রভাব রয়েছে এবং তাদের কারও কারও পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল।
সাজ্জাদ হোসেন মোল্লার রাজনৈতিক অতীত, আনিসুর রহমানের পারিবারিক পরিচয় এবং মাহবুব আলম মন্টুর পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ
খোলা চিঠিতে আনোয়ার হোসেন নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মোকাবিলা করেছেন তিনি। ছাত্রদলের একটি ইউনিট থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচনে দলের সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। তার কোটি টাকার প্রিন্টিং ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন চিঠিতে। গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনের চারটি ওয়ার্ডের মধ্যে তার দায়িত্বে থাকা ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য, দলের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের এখন খোঁজ নেওয়া হচ্ছে না। বরং সুবিধাভোগী একটি অংশ দলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে। তার আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলকে আবারও রাজনৈতিক সংকটে পড়তে হতে পারে।
কেকে/ এমএস