কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান বর্তমান সরকারের সময়ে হয়নি, বরং আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা এসব গ্যাং ধীরে ধীরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন ইউনিট এসব অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কুমিল্লার কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি, আতঙ্ক সৃষ্টি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
কোতোয়ালি থানা
কোতোয়ালি থানা এলাকায় ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’ গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড় এলাকার জিলানীর ছেলে জিসান (১৯) এবং আড়াইওড়া সমিতিপাড়া এলাকার আবদুল কুদ্দুস ও রুবি বেগমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০)।
চৌদ্দগ্রাম থানা
চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায় ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—নলিশ্বর খিরনশাল এলাকার আব্দুল মালেক ও কাহিনুর আক্তারের ছেলে মো. তারেক হোসেন সৈকত (১৯) এবং কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এলাকার মো. আলী ও জোস্না বেগমের ছেলে মো. জাফর আহমদ (২৩)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারেক হোসেন সৈকত একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
মনোহরগঞ্জ থানা
মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় ‘PX 10’ গ্যাংয়ের সদস্য মো. শাকিবকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পোমগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার তবু মিয়া ও শিউলি বেগমের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিজ নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী একাধিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেকে/ এমএস