‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পালিত হবে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬। দিবসটি সামনে রেখে সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সরকারি বাজেটের সঠিক বণ্টনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে এখনো জন্ম নিবন্ধনের গড় হার ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। ফলে বড় একটি জনগোষ্ঠী নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে।
নিবন্ধন না থাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেককে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে সময়মতো জন্ম নিবন্ধন না হওয়ায় শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও মানবপাচারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, মৃত্যু নিবন্ধনের ঘাটতিতে উত্তরাধিকার নির্ধারণ ও সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম, চর, পাহাড়ি অঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকায় মৃত্যু নিবন্ধনের হার তুলনামূলকভাবে কম বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে পরিবারের ওপর থাকা একক দায়িত্বের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে নিবন্ধন তথ্যের বিকৃতি ও ভুলের সুযোগ কমবে। পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধন ঠেকানো, তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৬.৯—সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনেও অগ্রগতি হবে।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)-এর নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘নাগরিকদের নির্ভুল ও সার্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।’
কেকে/এআই