বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সিরাজগঞ্জে কারিগরি শিক্ষায় অবদান রাখায় জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শহীদ শামসুদ্দিন হলরুমে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বিভাগে আবারও শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (প্রতিষ্ঠান প্রধান) হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম। এ ছাড়াও তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ নীতিমালা-২০১৬ এ কারিগরি শিক্ষায় উপজেলা, জেলা ও রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।
কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ২০১৯ সালে জ্ঞান তাপস ডা. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ নেপাল ফ্রেন্ডশিপ এওয়ার্ড অর্জন করেন এবং ২০২৩ সালে ৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ডেভেলমেন্ট রিসোর্স সেন্টারের উদ্যোগে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এবং সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক কলম সৈনিকের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এ্যাওয়ার্ড প্রাাপ্ত হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সিট পলিটেকনিক ও মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট সিরাজগঞ্জের পরিচালক (প্রশাসন), তাড়াশ কল্যাণ সমিতি সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমি (নায়েমে) কর্তৃক ১৩৬তম শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে সারাদেশে অংশগ্রহণকারী অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
এ ছাড়াও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমি (নায়েম) ও এইচটিটিআই রাজশাহীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : এ স্টাডি অন এমপ্লয়মেন্ট অপর্চুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি গবেষণারত রয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে মো. শরীফুল ইসলাম কারিগরি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ’। প্রতিষ্ঠানটি অল্পদিনেই ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। পরবর্তী শিক্ষার গুণগতমান বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৪ সালের ১ মে প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করেন।
বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে চারিদিক বাউন্ডারি বেষ্টিত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে চলছে বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা পাঠদান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাটি উত্তরবঙ্গের একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম অত্যন্ত সৎ, নির্ভীক, দানশীল, উদার, মিষ্টভাষী, নম্র এবং ভদ্র ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি তার মেধা, আন্তরিকতা ও সততা দিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছেন। পাশাপাশি তিনি কারিগরি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সভা ও মিছিলের অগ্রভাগে থেকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কারিগরি শিক্ষার সার্বজনীন কল্যাণে নিবেদিত একজন কর্মমুখর মানুষ।
তার কর্মকাণ্ড এখন শুধু সিরাজগঞ্জ-উত্তরবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তার কর্মকাণ্ড এখন রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে। তিনি জাতীয় পর্যায়েও শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কাজ করে যাচ্ছেন। তার লেখা একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ‘শতলেখা শতলিপি’ নামে।
অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মচরীদের আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্টা ও সুশাসনের কারণে শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজটি একটি আাদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমার এ স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাকার্যক্রমে আরও অগ্রগতির অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
কেকে/এআই