চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে রাজধানীর বাংলামোটরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলামোটর মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আমাদের এ বিক্ষোভ সমাবেশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। আমরা চাঁদাবাজি করতে আর কাউকে দেব না।’
তিনি প্রশাসনের প্রতি অনতিবিলম্বে সকল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু আজ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হয় না, বরং মেজর আখতারুজ্জামানের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। আমাদের এ আন্দোলনকে থামানো যাবে না। আমরা না থাকলেও আমাদের লোকেরা বাংলাদেশের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে এ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
সাইফুল আলম খান বলেন, ‘বাংলামোটরে যাদেরকে মারা হয়েছে তারা কোনো দল করে না। তাহলে তাদের কেন মারা হলো, আমরা তা জানতে চাই।’
বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করেই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘একটি দল যারা ক্ষমতায়, তারা আজ আন্তর্জাতিক চাঁদাবাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি চলবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই হবে। এ কর্মসূচি সারা বাংলাদেশে চলবে। কারণ এ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকার সার, বিদ্যুৎ ও জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।’
ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘যারা বলেছিল মদিনার সনদে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা এখন কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করছে।’
নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা উল্টাপাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের এমপিরাই আজ রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে। তাদের পদত্যাগ করিয়ে চুপ থাকলেই হবে না, আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিরপুরের রাড্ডার ঘটনা আড়াল করতে মেজর আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বাংলামোটর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, ইউসুফ আলী মোল্লা, নুরুল ইসলাম আকন্দ, কলিম উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, আবু সাঈদ মন্ডল প্রমুখ।
কেকে/এআই