ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করেও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যাচ হারের শঙ্কাও ততই বাড়ছিল। ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য এক গোলে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান দেজিরে দুয়ে।
বেলজিয়ামের কয়েকজন ডিফেন্ডার সামনে থাকলেও তাদের ফাঁক গলে ৭৭ মিনিটে বক্সের কাছ থেকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে গোল করেন দুয়ে। তার গোলে ম্যাচে ফেরে ফ্রান্স। এরপর যেন আর থামানো যায়নি জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের।
দুয়ের গোলের মাত্র চার মিনিট পর, ৮১ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা রায়ান চেরকি। এরপর বাকি দুই গোলও করেন আরেক বদলি খেলোয়াড় মাইকেল ওলিসে।
টানা তিন ম্যাচে গোল পাওয়া ওলিসে এ ম্যাচে নিজের প্রথম গোলটি করেন ৮৮ মিনিটে। বক্সের মধ্যে জটলার মাঝে বল পেয়ে দুয়ে সেটি বাড়িয়ে দেন ওলিসেকে। আলতো টোকায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও দুয়ে-ওলিসে জুটি বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে ভেঙে দেয়। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বক্সে সতীর্থের উদ্দেশে বল বাড়ান দুয়ে। গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন ওলিসে।
শেষ পর্যন্ত শেষ ১৪ মিনিটে চার গোল করে বেলজিয়ামকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এর আগে, ঘরের মাঠ স্টেডে দে ফ্রান্সে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। গোলটি করেন দদি লুকেবাকিও। এরপর ম্যাচে সমতা ফেরানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু কখনো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আবার কখনো দেম্বেলে-চেরকিদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক।
এই জয়ে ফিফা উইন্ডোটা দারুণভাবে শেষ করল ফ্রান্স। একই সঙ্গে নেশনস লিগের ‘গ্রুপ-১’-এর শীর্ষস্থানও আরও মজবুত করেছে জিদানের দল। চার ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্রয়ে ফ্রান্সের পয়েন্ট ১০।
৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে বেলজিয়াম। আর কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্ক রয়েছে গ্রুপের তলানিতে।
কেকে/ এমএস