ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ চার বছরের শিশুকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার সময় ট্রলির জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, টাকা দিতে না পারায় সময়মতো ট্রলি পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় শিশুটিকে কোলে করে অক্সিজেন ও স্যালাইন নিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে মারা যাওয়া শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় রুহুল আমিনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে পৌঁছাতে ট্রলি প্রয়োজন হয়। এ সময় ট্রলির জন্য টাকা দাবি করা হয়। তারা টাকা দিতে না পারায় ট্রলি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভেতরে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয় বলে তাদের দাবি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি অক্সিজেন মাস্ক পরা শিশুটিকে কোলে নিয়ে আছেন। অন্য একজন অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং আরেকজন স্যালাইনের ব্যাগ হাতে শিশুটিকে জরুরি বিভাগের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে হাসপাতালের রোগীদের ট্রলি ছাড়া এভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইন হাতে নিয়ে যেতে হয়—এমন কথাও শোনা যায়।
একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে জরুরি মুহূর্তে ট্রলির মতো মৌলিক সেবা পেতে অর্থ দাবি করা হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, ট্রলি না পাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না এবং ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আসিফুল আলম বলেন, “ব্যাপারটি কেন ঘটল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের এসব ‘ট্রলি সন্ত্রাসী’র বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/সাশ