ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ব্যবসায়িক অফিসে দিনেদুপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় সেলিম ওরফে ড্রেজার সেলিম, ফরহাদ হোসেন ও হানিফ মেম্বারসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার অফিসের কেয়ারটেকার মো. মাজিদুল হাসান বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অফিসের মালিক মোহাম্মদ সজিব বেপারির কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক অফিসে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সেখানে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রধান ফটক ও কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে অফিসের বিভিন্ন কক্ষ থেকে সোফা, চেয়ার, টেবিল, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, টেলিভিশন, এসি, ফ্যান ও রাউটারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অফিসের ড্রয়ারে থাকা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কেয়ারটেকারের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক, জমির দলিল, বায়নাপত্র, স্ট্যাম্প, অফিসের সিল-প্যাড ও মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ জিয়া বলেন, হামলাকারীরা কয়েক মিনিটের মধ্যে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দুটি পিকআপে মালামাল তুলে নিয়ে যায়। এ সময় অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
ভুক্তভোগী সজিব বেপারি দাবি করেন, লুট হওয়া নগদ টাকা, চেকবই ও বিভিন্ন মালামালের মোট মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। তার অভিযোগ, পুরোনো সাইনবোর্ড খুলে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে জায়গাটি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সেলিম। তিনি বলেন, “হানিফ মেম্বারের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে জায়গাটি পাওয়ার পর তারা দখল নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো ভাঙচুর বা লুটপাট করা হয়নি; শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে তারা চলে এসেছেন।”
আরেক অভিযুক্ত হাফিজ মেম্বারও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, জায়গাটি তার নিজস্ব সম্পত্তি এবং সজিব বেপারি সেখানে জোর করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
কেকে/সাশ