মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.৪ শতাংশে      ● নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান      ● আজকের শিশুরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে: প্রধানমন্ত্রী      ● লটারিতে ঢাকার ১৮ সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি      ● সৌদিতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা তুরস্ক-পাকিস্তানের      ● নাইজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত       ● শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী      
অর্থনীতি
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে ব্যাংকিং, জ্বালানি ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের গভীর সংকট, দুর্বল অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম গতি পেলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও আর্থিক মধ্যস্থতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারের প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের বহিঃখাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে হলে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থেমে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন।

একই সময়ে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দেশের রাজস্ব আহরণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। এর ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

দরিদ্রদের অর্ধেকই সামাজিক সুরক্ষার বাইরে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনে আরও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সীমিত সরকারি সম্পদ যাতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছায়, সে জন্য আরও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং নিয়মিতভাবে নতুন সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিকে সমন্বিত করা এবং বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে আরও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডকে সমন্বিত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনটি একই দিনে প্রকাশিত সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর সহযোগী প্রতিবেদন।

আঞ্চলিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলায় অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৈশ্বিক প্রতিকূলতা বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কৌশলগত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে উন্নত অর্থনীতির তুলনায় এ ক্ষেত্রে অঞ্চলটি এখনো অনেক পিছিয়ে। এর পরও এআই গ্রহণের গতি বাড়ছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন বাজারের সুযোগ খুঁজতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

সরকারগুলোও জনসেবা উন্নত করতে ক্রমবর্ধমানভাবে এআই ব্যবহার করছে। এর উদাহরণ হিসেবে ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশে এআই-সহায়তায় চোখের রেটিনা পরীক্ষা করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওহনসোর্গে বলেন, এআই গ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে। এর মাধ্যমে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবা প্রদানের মান উন্নত করা সম্ভব। তবে এর সুফল পেতে হলে এআই গ্রহণের পথে থাকা মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।


কেকে/সাশ 





আরও সংবাদ   বিষয়:  বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস   বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close