মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.৪ শতাংশে      ● নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান      ● আজকের শিশুরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে: প্রধানমন্ত্রী      ● লটারিতে ঢাকার ১৮ সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি      ● সৌদিতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা তুরস্ক-পাকিস্তানের      ● নাইজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত       ● শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
রংপুর অঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুর অঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধিতে এবার আমনচাষে বিঘা প্রতি ১৮০০-২০০০ টাকা খরচ বেড়েছে। ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে।

কৃষকেরা জানান, সাধারণ আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয় নভেম্বরের শুরুতে। একমাস আগে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়। বোরো ধান কাটার কিছু দিনের মধ্যেই জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করা হয়। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হয়। শীতকালীন সবজি ঘরে তোলার পর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন।

তারা জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে। তবে গেল বছরের তুলনায় এবছর বিঘা প্রতি ১৮০০-২০০০ টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। 

রংপুরের পাগলাপীর এলাকার কৃষক সুরেশ চন্দ্র বর্মণ জানান, সাধারণ উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন চাষ করা হয়। এ সব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমনচাষ করেছেন। তিন বিঘা জমি থেকে ধান পেয়েছেন ৪৯ মণ। অবশিষ্ঠ দুই বিঘা জমির ধান এক সপ্তাহ পরে কাটা হবে। 

তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬-১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তিনি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনিয়াপাতা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করতে পারেন। এতে তারা লাভবান হন। তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ করে ফলন পেয়েছেন ১০১ মণ।

তিনি জানান, বছর ৬ বিঘা জমিতে আগাম ধানচাষ করতে খরচ করেছেন ৮৭ হাজার টাকা। তবে গেল বছর একই জমিতে খরচ করেছিলেন ৭১ হাজার টাকা। এ অঞ্চলে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন ধান কাটা চলে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের এলাকায় এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম জাতের আমন কাটা শুরু হয়েছে। অনেক কৃষকই ধান কাটা পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন ফসল চাষ করেছেন। এ বছর আগাম জাতের আমন ধানে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি। ফলন পেয়েছি আশানুরূপ। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষে লাভের অঙ্ক কমেছে।

 কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের বুকে চর যাত্রাপুরের কৃষক রইছ আলী মণ্ডল বলেন, ‘এ বছর ব্রহ্মপুত্রপাড়ে কোনো বন্যা হয়নি। তাই আগাম জাতের আমনের ক্ষতি হয়নি। আমরা সাধারণত আগাম জাতের ধান লাগাই, যাতে ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল আগাম চাষ করতে পারি। আমার চার বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে কাটা শুরু করব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্য্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কর্তন শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  রংপুর   অঞ্চল   আগাম   আমন ধান   কাটা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close