লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে তার রেখে যাওয়া রেকর্ডগুলোর ব্যাপ্তি। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে জাতীয় দলের গোল, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেকে ক্লাব ফুটবলের অসাধারণ পরিসংখ্যান—প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলের রেকর্ড বইয়ে একের পর এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন।
পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মেসির কয়েকটি কীর্তি এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য ভাঙা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপে ছয় আসর, রেকর্ড ৩৪ ম্যাচ
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে মেসির বিশ্বকাপযাত্রা শুরু। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিয়েছেন তিনি।
ছয় আসরে মেসির ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪, যেখানে মাঠে তার মোট সময় ৩ হাজার ৫৫ মিনিট। বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন এককভাবে তার দখলে।
একই সঙ্গে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিতে মেসির সঙ্গে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিলের্মো ওচোয়া। তবে এত দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় থাকা এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ধারাবাহিকতা মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম অনন্য দিক।
আর্জেন্টিনার গোলের তালিকায় অনেক দূরে মেসি
জাতীয় দলের হয়েও মেসির পরিসংখ্যান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুয়ার গোলসংখ্যা ৫৪। অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল বাতিস্তুয়ার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। প্রায় ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে খেলে যাওয়ার বিষয়টিও তার রেকর্ডকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোল
২০১২ সালে মেসি এমন এক গোল-রেকর্ড গড়েন, যা এখনো ফুটবলের অন্যতম বিস্ময়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ওই বছর তিনি করেন ৯১ গোল।
এ কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের এক পঞ্জিকাবর্ষে ৮৫ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। ফলে এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের মাপকাঠি ৮৫ থেকে ৯১-এ নিয়ে যান মেসি।
বার্সেলোনায় ম্যাচ, গোল ও ট্রফির অনন্য সমন্বয়
বার্সেলোনার হয়েও মেসির পরিসংখ্যান তাকে ক্লাবটির ইতিহাসে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অফিসিয়াল ম্যাচে ৭৯৮ বার মাঠে নেমে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল—দুটিই ক্লাবটির ইতিহাসে অসাধারণ মাইলফলক।
বার্সেলোনার হয়ে মেসি জিতেছেন মোট ৩৫টি শিরোপা। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি লা লিগা এবং ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। একটি ক্লাবের হয়ে এত দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ, গোল এবং শিরোপা—তিন ক্ষেত্রেই এমন সাফল্যের সমন্বয় আধুনিক ফুটবলে বিরল।
সংখ্যার আড়ালেই মেসির সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার
মেসির বিদায় কেবল আর্জেন্টিনার জার্সিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; এটি ফুটবলের রেকর্ড বইয়ের একটি স্বর্ণালি অধ্যায়েরও শেষের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
৩৪ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ১২৫ আন্তর্জাতিক গোল, এক বছরে ৯১ গোল, বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২ গোল এবং ৩৫টি ক্লাব শিরোপা—প্রতিটি সংখ্যাই আলাদা একটি গল্প বলে। আর এ সব কীর্তির সম্মিলিত অর্থ আরও বড়, মেসির মতো দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য, ধারাবাহিকতা ও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব একসঙ্গে অর্জন করতে পরবর্তী প্রজন্মকে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে বহু বছর।
কেকে/এআই