মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল      ● বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.৪ শতাংশে      ● নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান      ● আজকের শিশুরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে: প্রধানমন্ত্রী      ● লটারিতে ঢাকার ১৮ সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি      ● সৌদিতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা তুরস্ক-পাকিস্তানের      ● নাইজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত       
দেশজুড়ে
গাজীপুরে বন বিভাগের বিভাগীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

গাজীপুরের বন ও পরিবেশ সুরক্ষা, বনভূমি দখলমুক্তকরণ এবং বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় জনগণের জোত জমি থাকলে তা বৈধভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারকে ওই জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জয়দেবপুরের শহীদ নিয়ামত সড়কের শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট (পিআইডি ট্রাস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, গাজীপুর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলসমৃদ্ধ জেলা। এখানকার বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বনভূমি দখল, বনে অবৈধ স্থাপনা, বন উজাড় ও বিভিন্ন ধরনের বন অপরাধের কারণে বন ও পরিবেশ ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।

আয়োজকদের মতে, শুধু আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে বন রক্ষা সম্ভব নয়। বন সংরক্ষণে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, দ্রুত আইন প্রয়োগ, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও স্থানীয়ভাবে সরকারি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহাখালী বন ভবনের পরিবর্তে গাজীপুরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকরা বলেন, বর্তমানে ঢাকা বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাদ ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় পর্যায়ের কার্যালয় রাজধানীর মহাখালীতে থাকায় গাজীপুরের বন এবং পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সংশ্লিষ্টদের ঢাকায় গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়।

তাদের দাবি, এতে বন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, ভূমির মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীদের সময়, অর্থ, শ্রম ব্যয় হচ্ছে। 

গাজীপুরের বনাঞ্চল ও বন প্রশাসনের জন্য পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভাগীয় সেবা পাওয়া সহজ হবে ও বন সংরক্ষণ, বনভূমি উদ্ধার, বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

আয়োজকরা বলেন, ঢাকা বন বিভাগের ভবিষ্যৎ কাঠামো কী হবে, সেটি তাদের দাবির বিষয় নয়। তাদের মূল দাবি হলো, গাজীপুর জেলার বনাঞ্চল ও বন প্রশাসনের জন্য পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করা।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বনাঞ্চলের ভেতরে থাকা জনগণের জোত জমি নিয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকরা বলেন, যেসব জমি জনগণের বৈধ জোত হিসেবে রয়েছে, সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণকে আইনসম্মত সুযোগ দিতে হবে। যদি ওই জমি বন সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হয় এবং জনগণের ব্যবহার বা মালিকানা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারকে জমি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে।

তাদের বক্তব্য, জনগণের জমির মালিকানা ও বনভূমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ভূমি ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে একদিকে বনভূমি সুরক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রকৃত ভূমি মালিকদের অধিকার ও স্বার্থ আইনানুগভাবে বিবেচনায় নেয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের বনভূমির জমির রেকর্ড ও গেজেট নিয়ে জটিলতার বিষয়টিও উঠে আসে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোথাও কোথাও হাজার হাজার একর জমি বনভূমি হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানার নামে রয়েছে। আবার জমির সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানার তথ্য থাকলেও গেজেটে জমি বন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

এ ধরনের রেকর্ড ও গেজেটের অসামঞ্জস্যের কারণে বন বিভাগ, ভূমি মালিক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিরোধ এবং জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। তাই সংশ্লিষ্ট ভূমির রেকর্ড, গেজেট, দখল ও মালিকানা যাচাই করে আইনানুগভাবে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বনভূমি উদ্ধার ও বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোরতার দাবি 

সংবাদ সম্মেলনে জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি উদ্ধার করা বনভূমি যাতে পুনরায় দখল না হয় সেজন্য স্থায়ী নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকরা বলেন, বন অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, প্রভাব কিংবা অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে।

পাঁচ দফা দাবিতে যা আছে

আয়োজকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্য রয়েছে— সেবা সহজীকরণ ও বন-পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা; যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করে বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান; জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা ও বন দখল ঠেকাতে স্থায়ী উদ্যোগ; যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হয়রানিমূলক বন মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা; বন অপরাধে জড়িত সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

আয়োজকরা বলেন, বন রক্ষা শুধু বন বিভাগের একক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব। বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্য কার্যকর সমন্বয় ছাড়া গাজীপুরের বনাঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা কঠিন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. মোছাদ্দিকুর রহমান, জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও সিইও মো. মেহেদী হাসান, গাপার উপদেষ্টা ফ্রেড্রিক মুকুল বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইসমাইল মোল্লা, নির্বাহী সহসভাপতি একেএম এনামুল হকসহ সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গাজীপুরের বনাঞ্চল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা ও বন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বন বিভাগের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভূমি-সংক্রান্ত বৈধ অধিকার ও বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার মধ্য সমন্বয় করে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজকরা পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি গাজীপুরের বন ও পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  গাজীপুর   বন বিভাগ   বিভাগীয় দপ্তর   প্রতিষ্ঠা   দাবি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close